প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জে অবস্থিত সাদা পাথর এলাকা থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন ও লুট হওয়া পাথর সাত দিনের মধ্যে আগের স্থানে ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসাথে এই লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিস্তারিত তালিকা আদালতে দাখিলেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
রিট আবেদনটি করেন এইচআরপিবির পক্ষ থেকে সরওয়ার আহাদ এবং শুনানিতে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনজিল মোরসেদ। আদালতের এই নির্দেশকে সিলেট অঞ্চলের পরিবেশ সংরক্ষণ আন্দোলনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর এলাকা শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই পরিচিত নয়, বরং এটি বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ হিসেবেও খ্যাত।
গত বছরের ৫ আগস্ট প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর থেকে সিলেটের অন্যান্য পাথর কোয়ারির মতো সাদা পাথরেও শুরু হয় ব্যাপক লুটপাট। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী স্থানীয় নেতারা এবং তাদের ঘনিষ্ঠ মহল এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত। ফলে বিপন্ন হয়ে পড়ে এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য, ক্ষতিগ্রস্ত হয় নদী ও আশপাশের জীববৈচিত্র্য।
এই ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়। ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পাথর উত্তোলন ও বহন করা হচ্ছে। জনমত চাপে পড়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। পরিবেশ অধিদপ্তরও ঘটনাস্থল পরিদর্শনের উদ্যোগ নেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাদা পাথরের লুটপাট কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং এটি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসের এক বড় উদাহরণ। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন হলে হয়তো এই ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য কঠোর নজরদারি, জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন পরিবেশ কর্মীরা।
হাইকোর্টের এই নির্দেশনা দেশের অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার ক্ষেত্রেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করতে পারে এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে সক্ষম হয়।