অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচন মানে অস্থিতিশীলতার পথে বাংলাদেশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ১২৪ বার

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনী আয়োজন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই তীব্র হয়ে উঠছে অংশগ্রহণ ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সঙ্গে বৈঠক শেষে জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব শামিম হায়দার পাটোয়ারি দৃঢ় ভাষায় সতর্ক করেন, যদি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত না হয়, তাহলে দেশ অস্থিতিশীলতার দিকে যাবে এবং পরিস্থিতি গৃহযুদ্ধের মতো বিপজ্জনক রূপ নিতে পারে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শামিম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থা ও অন্তর্ভুক্তি অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, “অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছাড়া দেশকে কোনোভাবেই শান্তিপূর্ণ পথে রাখা সম্ভব নয়। যদি কেউ মনে করে একতরফা নির্বাচন দিয়ে দেশের সংকট মেটানো যাবে, তবে সেটি মারাত্মক ভুল হবে।”

জাপা মহাসচিব আরও জানান, দলীয় অভ্যন্তরীণ বিষয়েও বর্তমানে অনিশ্চয়তা রয়েছে। প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও বর্তমান চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের অনুমোদন ছাড়া লাঙ্গল প্রতীক ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি স্পষ্ট করেন। দলীয় বিভক্তি বা অনিয়মতান্ত্রিক কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রার্থী মনোনয়নের যে কোনো প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন। “জি এম কাদেরের আহ্বান ছাড়া অন্য কারো ডাকা কাউন্সিল প্রক্রিয়াগতভাবে সঠিক নয় এবং সেটি দলীয় ঐক্যে বিভাজন তৈরি করবে,” তিনি বলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশন নয়, বরং সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকেও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করতে পারে। বাংলাদেশে অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, একতরফা বা আংশিক অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা এবং প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করে। শামিম হায়দারের বক্তব্য সেই আশঙ্কাকেই সামনে এনেছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বৈঠকের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া না গেলেও কমিশনের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, তারা রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থার সংকট নিরসনে সংলাপ ও আলোচনার উদ্যোগ আরও জোরদার করবে। তবে নির্বাচন কমিশনের হাতে রাজনৈতিক সমঝোতা আনার ক্ষমতা সীমিত—এটি নির্ভর করছে দলগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।

এদিকে, রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন প্রশ্নটি একটাই—আসন্ন নির্বাচন সত্যিই কি সকল দলের অংশগ্রহণে হবে, নাকি দেশ আবারও একতরফা নির্বাচনের অভিজ্ঞতা পাবে? এই অনিশ্চয়তার মধ্যে শামিম হায়দারের সতর্কবাণী অনেকের কাছেই এক ধরনের রাজনৈতিক পূর্বাভাস হিসেবে ধরা হচ্ছে, যা বাস্তবায়িত হলে দেশ আরও গভীর সংকটে পড়তে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত