প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশের প্রখ্যাত ইসলামী বক্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকা কলেজে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের। বুধবার (১৩ আগস্ট) বাদ আসর ঢাকা কলেজের কেন্দ্রীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা কলেজ শাখার সভাপতি মোস্তাকিম আহমেদ এবং সঞ্চালনা করেন শাখার সেক্রেটারি আ. রহমান আফনান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার সম্পাদক মো. আমিরুল ইসলাম। তিনি তার বক্তব্যে আল্লামা সাঈদীর জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, তিনি সবসময় ইসলামের সেবা করেছেন এবং ধর্মীয় জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন। তার মতে, শুধুমাত্র ইসলামী আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করার জন্যই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মো. আমিরুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, আল্লামা সাঈদী দেশের ওয়াজ মাহফিলের প্রচলিত ধারা পরিবর্তন করে কুরআন ও হাদিসের আলোকে বাস্তবধর্মী তাফসিরের মাধ্যমে মানুষের অন্তরে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। অতীতে যেখানে ওয়াজ মাহফিল প্রায়ই গল্পগুজব ও কেচ্ছা কাহিনীতে সীমাবদ্ধ ছিল, সেখানে তিনি তা পরিণত করেছিলেন কুরআনের ভাষ্যভিত্তিক জ্ঞানগর্ভ আলোচনায়।
তিনি বলেন, “দুনিয়ার জীবন খেলাধুলা ও তামাশা ছাড়া কিছু নয়। তাই আমাদের সবসময় আখিরাতের কথা স্মরণ রাখতে হবে এবং মৃত্যুর প্রস্তুতি নিতে হবে। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আল্লামা সাঈদীকে জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা দান করেন।”
সভায় সভাপতির বক্তব্যে মোস্তাকিম আহমেদ আল্লামা সাঈদীকে ‘প্রেরণার বাতিঘর’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “তিনি এমন একজন আলেম ছিলেন যাকে সব শ্রেণির মানুষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা করতেন। তার আলোচনার মধ্যে এমন কিছু ছিল না যা সমালোচনার সুযোগ তৈরি করত। তিনি আমাদের জন্য আদর্শের প্রতীক।”
এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন স্তরের মানুষের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। অনুষ্ঠান শেষে সাঈদীর আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করা হয় এবং তার রেখে যাওয়া দ্বীন প্রতিষ্ঠার আহ্বান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের এই আয়োজন শুধু স্মৃতিচারণ নয়, বরং অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল প্রেরণাদায়ী এক মিলনমেলা, যেখানে বক্তারা বারবার উল্লেখ করেছেন, আল্লামা সাঈদীর রেখে যাওয়া আদর্শই তাদের জন্য পথচলার প্রেরণা হয়ে থাকবে।