প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ঢাকায় টেলিগ্রামে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা প্রতারণা ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। ধানমন্ডি এলাকা থেকে আটক করা ব্যক্তির নাম নয়ন আলী (৩৪)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নয়ন আলী টাকা বিদেশে পাচারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।
সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) একটি দল বুধবার (১৩ আগস্ট) ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে নয়ন আলীকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় প্রতারণায় ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, চক্রটি হোয়াটসঅ্যাপের অজ্ঞাত নম্বর ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের অল্প সময়ে বেশি আয়ের প্রলোভন দেখাত। প্রস্তাবে রাজি হলে টেলিগ্রামের মাধ্যমে একটি লিংক পাঠানো হতো। সেখানে কিছু সাধারণ কাজ শেষ করলে বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে ছোট অংকের অর্থ প্রদান করা হতো।
প্রাথমিক বিশ্বাস অর্জনের পর ভুক্তভোগীদের বড় বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হতো। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা নেওয়ার পর তা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে হুন্ডি করে বিদেশে পাঠানো হতো। গ্রেপ্তার নয়ন আলী জানান, তার চাচা পরিচয়ের জুহুরুল ইসলাম (৪০) তাকে চক্রটির সঙ্গে যুক্ত করেন। চক্রের মূল হোতা মেহেদী হাসানের (৩০) নির্দেশে নয়ন ও তার বোন ডাচ-বাংলা ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে লেনদেন পরিচালনা করতেন। প্রতি এক লাখ টাকার লেনদেনে ১ হাজার টাকা কমিশন পাওয়ার পাশাপাশি, গত তিন মাসে নয়ন প্রায় ৪ লাখ টাকা আয় করেছেন।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, নয়ন আলীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গত তিন মাসে প্রায় ৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এসব টাকা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। নয়নের বিরুদ্ধে ক্যান্টনমেন্ট থানায় প্রতারণার মামলা রয়েছে। এছাড়া ধানমন্ডি থানায় আরও একটি মামলা এবং চট্টগ্রামে একই অভিযোগে আরও একটি মামলা রয়েছে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন জানান, চক্রের মূল হোতা মেহেদী হাসান, জুহুরুল ইসলাম এবং অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা যেকোনো বিনিয়োগের প্রলোভন এবং অফার নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে অনলাইনে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঘটনা রোধ করা যায়।