অতিরিক্ত উৎপাদনে আলুর বাজারে ধস, কৃষকের লোকসান চরমে

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬৭ বার
অতিরিক্ত উৎপাদনে আলুর বাজারে ধস, কৃষকের লোকসান চরমে

প্রকাশ: ১৫ অগাস্ট’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের কৃষি খাতে চলতি মৌসুমে আলুর অতিরিক্ত উৎপাদন কৃষকদের জন্য আশীর্বাদের পরিবর্তে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে এখন আলুর দর এতটাই কম যে উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না চাষিরা। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬০ শতাংশের বেশি দরপতন। গত বছর এই সময়ে প্রতি কেজি আলুর দাম ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর আলু চাষে ভালো মুনাফা পাওয়ায় এ বছর অনেকে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক বেশি হওয়ায় দর ভেঙে পড়েছে। এতে অনেকে হিমাগার থেকে আলু বের করছেন না, ফলে বিপুল পরিমাণ আলু গুদামেই আটকে আছে। বাংলাদেশ কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএসএ) জানায়, দেশে বছরে সর্বোচ্চ ৯০ লাখ টন আলুর চাহিদা থাকলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ কোটি ২৯ লাখ টন। অর্থাৎ চাহিদা মিটিয়েও অতিরিক্ত ৩৯ লাখ টন আলু থেকে যাচ্ছে। এ বছর এখন পর্যন্ত হিমাগার থেকে মাত্র ১১-১২ শতাংশ আলু বাজারে এসেছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে এই হার ছিল ৪০ শতাংশেরও বেশি।

কৃষি অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ পড়েছে ১৪ থেকে ১৫ টাকা। এর সঙ্গে হিমাগার ভাড়া ৬ টাকা, বস্তা ও পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ মিলে প্রতি কেজির গড় খরচ দাঁড়িয়েছে ২৬ থেকে ২৭ টাকা। কিন্তু বাজারে সেই আলু পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১২ থেকে ১৩ টাকায়। ফলে প্রতি কেজিতে লোকসান হচ্ছে ১৩ টাকারও বেশি। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ও ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) উভয়ই নিশ্চিত করেছে যে গত বছরের তুলনায় এ বছর আলুর দর কমেছে প্রায় ৬০.৮৭ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের শীর্ষ আলু উৎপাদনকারী জেলা মুন্সীগঞ্জ ও জয়পুরহাট। মুন্সীগঞ্জ থেকে আমাদের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বাজারদর কমে যাওয়ায় কৃষকরা একপ্রকার পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী আলী আহাম্মেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কৃষকরা পুরোপুরি পুঁজি হারিয়ে পঙ্গু হয়ে গেছে।” মুক্তার বেপারী নামের এক চাষি বলেন, “যদি সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে নভেম্বরের মধ্যে নতুন আলু বাজারে চলে আসবে, আর পুরোনো আলু নদীতে ফেলতে হবে।” তিনি আলু রপ্তানি বা ভিজিএফ কর্মসূচির মাধ্যমে বিতরণের দাবি জানান, যাতে কৃষকরা কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত জানান, এ বছর মুন্সীগঞ্জে ১০ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। উৎপাদনে শীর্ষে থাকলেও বাজারজাতকরণে জটিলতা ও অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম কমে গেছে। কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রতি বছরই কোনো একটি কৃষিপণ্যের অতিরিক্ত উৎপাদন হলে কৃষকরা লোকসানে পড়েন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠা এবং বাজারমূল্যে সরকারি সহায়তা জরুরি, যাতে কৃষকরা ভবিষ্যতে আলু চাষে আগ্রহ না হারান এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিঘ্নিত না হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত