প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা, ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং গাজার চলমান মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ আবারও ফিলিস্তিনের প্রতি তার অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এসওয়াই রমাদানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে পরিবর্তনগুলো ঘটছে, তা শেষ পর্যন্ত একটি কার্যকর দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তি স্থাপন করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অদূর ভবিষ্যতে আরও অনেক দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে।
সাক্ষাৎকালে ড. ইউনূস দৃঢ়ভাবে বলেন, “আমাদের জনগণ ফিলিস্তিনের জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। সরকারও তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে।” তিনি বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের নৈতিক অবস্থান ও সংহতির চিত্র তুলে ধরে বলেন, ইতিহাস সাক্ষী যে, বাংলাদেশের মানুষ সর্বদা নিপীড়িতের পক্ষে এবং ন্যায়বিচারের পথে দাঁড়িয়েছে। ফিলিস্তিন ইস্যুতেও ব্যতিক্রম ঘটেনি।
ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এসওয়াই রমাদান এ সময় বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, গাজায় বর্তমানে ভয়াবহ মানবিক সংকট চলছে—খাবার নেই, ওষুধ নেই, আর শিশুরাই সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। এ অবস্থায় বাংলাদেশের জনগণ ব্যক্তি পর্যায়ে যে সহায়তা পাঠাচ্ছেন এবং সরকার যে রাজনৈতিক ও মানবিক সমর্থন দিচ্ছে, তা ফিলিস্তিনের মানুষের জন্য এক অনন্য শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি যোগ করেন, “আমাদের জনগণ জানে, এই সাহায্য বাংলাদেশ থেকে আসছে। আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ।”
রাষ্ট্রদূত রমাদান আরও বলেন, বাংলাদেশ কেবল মানবিক সহায়তা নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ফিলিস্তিনের পক্ষে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত তথাকথিত ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ মানচিত্রের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে একত্রে দাঁড়ানোর জন্য তিনি বাংলাদেশের সরকারকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশকে আহ্বান জানান, ফিলিস্তিনি পণ্য আমদানি বাড়িয়ে অর্থনৈতিকভাবে ফিলিস্তিনকে সহায়তা করার। তার মতে, এই বাণিজ্য সহযোগিতা ফিলিস্তিনের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে এবং বাংলাদেশ-ফিলিস্তিন সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।
আলোচনায় রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি তার আস্থা ও সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং সরকারের সাফল্য কামনা করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও মানবিক অবস্থান আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।”
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা এবং এশিয়ার বহু দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা শুধু ফিলিস্তিনের সংগ্রামকেই শক্তিশালী করছে না, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের কণ্ঠকেও প্রভাবশালী করে তুলছে।
ড. ইউনূসের বক্তব্য এবং রাষ্ট্রদূতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এটাই প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার নীতি থেকে এক ইঞ্চিও সরে আসেনি। মানবিকতার প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিসরে যেমন মর্যাদা অর্জন করছে, তেমনি ফিলিস্তিনের ন্যায়বিচারের লড়াইয়েও অটল সহযোগী হিসেবে পরিচিত হচ্ছে।