চাকরিচ্যুত রোহিঙ্গা শিক্ষকরা অবরোধে, কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬৪ বার

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের উন্নয়ন সংস্থার বিভিন্ন স্কুল থেকে চাকরিচ্যুত হওয়া শিক্ষকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নেমেছেন। সোমবার (১৮ আগস্ট) সকাল থেকেই কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের কোটবাজার চৌরাস্তার মোড়ে অবস্থান নিয়ে তারা এই কর্মসূচি শুরু করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষক সড়কে অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, এবং সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ট্রাকচালক হাবিব উল্লাহ জানান, সকাল ৭টা থেকে তিনি গাড়ি নিয়ে বসে আছেন এবং সাড়ে ১১টা পর্যন্ত গাড়ি একপদক্ষেপও এগোতে পারেননি। তার গাড়িতে থাকা কাঁচামাল নির্দিষ্ট সময়ে না পৌঁছালে নষ্ট হয়ে যাবে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিক্ষোভরত শিক্ষক শামিম বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানে নিয়োজিত ছিলাম। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ও ইউনিসেফ ফান্ডের তহবিল সংকট দেখিয়ে হঠাৎ আমাদের প্রায় চার হাজার শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এর আগেও আমরা আন্দোলন করেছি এবং পুনর্বহালের আশ্বাস পেয়েছিলাম, কিন্তু নানা কারণ দেখিয়ে তা কার্যকর করা হয়নি। আমরা এই অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং দ্রুত চাকরি পুনর্বহাল দাবী করছি।”

স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে। উখিয়া থানা পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, “শিক্ষকরা সকাল থেকেই কোটবাজার চৌরাস্তার মোড়ে অবস্থান করছেন। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি এবং তাদের শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টি সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ কমানোও আমাদের অগ্রাধিকার।”

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো এনজিও বা উন্নয়ন সংস্থার পক্ষ থেকে এখনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি বিবেচনায়, শিক্ষকদের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে একটি দ্রুত সমাধানই আলোচনার প্রধান পথ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যাতে শিক্ষকরা পুনর্বহাল পায় এবং মহাসড়কের চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত