এনবিআরের আন্দোলনের জেরে আরও চার কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪০ বার

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আরও চারজন কর কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)। সোমবার আইআরডির এক পৃথক আদেশে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—সিলেট কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু; মোংলা কাস্টমস হাউস, খুলনার অতিরিক্ত কমিশনার আবুল আলা মোহাম্মদ আমীমুল ইহসান খান; চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমির যুগ্ম কমিশনার সানোয়ারুল কবির এবং খুলনা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের উপকমিশনার সাইদুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট আদেশে জানানো হয়েছে, গত ১২ মে সরকার রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ ২০২৫ জারির পর থেকে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। ওই সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা হয় এবং কর্মীদের কাজ ত্যাগ করে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। এতে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। এ কারণে সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ধারা ৩৯(১) অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সাময়িক বরখাস্তের এই আদেশ জারি করা হয়। বরখাস্তের সময়কালীন নিয়ম অনুযায়ী তারা খোরপোষ ভাতা পাবেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় মাস ধরে চলা এই আন্দোলনের সঙ্গে বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং অনেকে নেতৃত্বও দিয়েছেন। এনবিআরের আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে রাজস্ব কাঠামোতে নতুন অধ্যাদেশ জারির পর। এর আগে ২৮ ও ২৯ জুন সারা দেশে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ বন্ধ রাখেন। ব্যবসায়ীদের মধ্যস্থতায় পরবর্তীতে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়।

আন্দোলন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন সদস্য ও একজন কমিশনারকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তৎকালীন কমিশনারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং আরও অনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জানা গেছে, অন্তত ১৬ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

রাজস্ব খাতে যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে গত মে ও জুন মাস জুড়ে যে আন্দোলন চলেছে, তার প্রতিক্রিয়া এখনও বিদ্যমান। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, নতুন কাঠামো দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা আনবে। তবে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ তুলেছেন, তাদের মতামত যথাযথভাবে গ্রহণ করা হয়নি এবং প্রণীত কাঠামোতে নানা অসঙ্গতি রয়ে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে রাজস্ব খাতের কর্মপরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অব্যাহত শাস্তিমূলক পদক্ষেপে প্রশাসনের ভেতর উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে, যা রাজস্ব আদায়ের সামগ্রিক প্রক্রিয়াতেও প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, সরকার সংস্কারের প্রয়াসে অটল রয়েছে এবং স্পষ্ট করেছে যে, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত