১২ মন্ত্রণালয়ে এডিপি বাস্তবায়নে শূন্য অগ্রগতি, বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৫
  • ১২৯ বার
ব্যাংকে টাকা রাখার আগে সতর্ক হন: কীভাবে বুঝবেন কোন ব্যাংক নিরাপদ?

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে এক নজিরবিহীন ধীরগতি দেখা দিয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাই মাসে বরাদ্দের এক শতাংশেরও কম অর্থ খরচ করতে সক্ষম হয়েছে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো। অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পূর্বের তুলনায় স্থিতিশীল থাকা সত্ত্বেও বাস্তবায়নের হার এতটা কম হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক ও উদ্বেগজনক।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এডিপিতে চলতি অর্থবছরে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এর বিপরীতে জুলাই মাসে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৬৪৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, যা শতকরা হিসাবে দাঁড়িয়েছে মাত্র ০.৬৯ ভাগ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই হার ছিল ১.০৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক দশকের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন অগ্রগতি।

প্রকল্প বাস্তবায়নের খরচের খাতভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে সরকারি অর্থায়ন থেকে খরচ হয়েছে ৭২৮ কোটি টাকা, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ৮৩৮ কোটি টাকা এবং প্রকল্পগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন বাবদ খরচ হয়েছে মাত্র ৭৮ কোটি টাকা। চলমান ১ হাজার ১৯৮টি প্রকল্পের বিপরীতে এ ব্যয় কোনোভাবেই আশাব্যঞ্জক নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, জুলাই মাসে অন্তত ১২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কোনো ধরনের ব্যয়ই দেখাতে পারেনি। এদের মধ্যে রয়েছে—পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জননিরাপত্তা বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আইএমইডি নিজেই, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়। অর্থাৎ পুরো মাসে এসব দপ্তর একটি টাকাও ব্যয় করতে পারেনি।

এ ছাড়া আরও ১৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ নামমাত্র ব্যয় করেছে, যাদের বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক শূন্য ১০ শতাংশের নিচে। এদের মধ্যে রয়েছে নৌপরিবহন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, সুরক্ষা সেবা, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, সমাজকল্যাণ, জনপ্রশাসন, বাণিজ্য, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, বস্ত্র ও পাট, তথ্য ও সম্প্রচার, সংস্কৃতি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও পরিকল্পনা বিভাগ।

অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে কিছু মন্ত্রণালয় বাস্তবায়নে খানিকটা এগিয়ে রয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় তাদের বরাদ্দের ১১.৩০ শতাংশ অর্থ ব্যয় করে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ (৭.০৫ শতাংশ), তৃতীয় স্থানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (৩.৫৬ শতাংশ), চতুর্থ স্থানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় (৩.৫১ শতাংশ) এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ (৪.৪৬ শতাংশ)।

অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এডিপি বাস্তবায়নে এমন ধীরগতি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষত অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের প্রকল্পগুলো দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে জনসেবামূলক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এ প্রসঙ্গে বলেন, গত অর্থবছরজুড়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল সবচেয়ে কম, চলতি বছরেও একই প্রবণতা শুরু হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশেষ নজরদারি চালানো হলেও আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জানুয়ারি থেকে বাস্তবায়নের গতি আরও মন্থর হয়ে যেতে পারে।

তিনি আরও জানান, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের হার বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। তবে যদি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি কমে যায়, তাহলে অর্থবছরের শেষে এডিপি ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে এডিপি বাস্তবায়নের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই অর্থনীতিবিদদের মতে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় বৃহৎ বাজেট অনুমোদন সত্ত্বেও উন্নয়ন কার্যক্রম কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাওয়ার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত