সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার অনুমোদন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫৮ বার

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার সকালে কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ভুয়া ব্যাংক হিসাব খুলে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের।

দুদক সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন সময়ে প্রভাব খাটিয়ে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলার মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তদন্তে উঠে এসেছে যে, এসব টাকা সরকারি উন্নয়ন তহবিল ও সিটি করপোরেশনের রাজস্ব তহবিল থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। কাগজপত্রে নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির প্রমাণ মেলায় কমিশন এ মামলার অনুমোদন দেয়।

এর আগে চলতি মাসের ৩ আগস্ট দুদক আরেকটি মামলা দায়ের করে জাহাঙ্গীর আলম ও প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে। সেই মামলায় প্রায় ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে বলা হয়, তারা দুজন পরস্পরের যোগসাজশে ভুয়া টেন্ডার তৈরি, ভুয়া বিল প্রস্তুত এবং নিজস্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন। পরে ওই অর্থ বিদেশে পাচার করা হয় বলে দুদকের প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে।

দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার অনুমোদন প্রমাণ করে যে, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আর্থিক লেনদেনে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক অনিয়ম চলছিল। স্থানীয় সরকার প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থ এবং নাগরিক সেবা খাতে ব্যবহার হওয়ার কথা থাকলেও তা নানা কৌশলে আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে বলে কমিশনের ধারণা।

রাজনৈতিক অঙ্গন ও নাগরিক সমাজে এই মামলার খবরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম নিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, গাজীপুরের মতো বৃহৎ নগর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান যদি এমন দুর্নীতির কবলে পড়ে, তবে এর প্রভাব সরাসরি নাগরিক জীবনে পড়বে। জনস্বার্থে বরাদ্দ অর্থ আত্মসাৎ হলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন থমকে যাবে, সেবার মান কমে যাবে এবং নাগরিক আস্থার সংকট তৈরি হবে।

অন্যদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশন বলছে, এ ধরনের মামলার অনুমোদন প্রমাণ করে যে, প্রতিষ্ঠানটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করছে। কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগ যেই করুক, প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই মামলাগুলোর মাধ্যমে সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকারের আর্থিক অনিয়ম উন্মোচিত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্নীতি প্রতিরোধে আইনি কাঠামো আরও দৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু মামলা অনুমোদন নয়, বরং দ্রুত বিচার ও কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশে বহু সময় দেখা যায়, দুর্নীতির মামলা শুরু হলেও বছরের পর বছর ধরে তার নিষ্পত্তি হয় না। এতে একদিকে বিচার প্রক্রিয়ায় জনগণের আস্থা কমে যায়, অন্যদিকে দুর্নীতিবাজদের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ভয়ও থাকে না।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য আলোচনায় ছিলেন। এর আগেও রাজনৈতিক কারণে তিনি শাসকদলের সঙ্গে নানা বিরোধে জড়ান এবং দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সাময়িক বহিষ্কৃত হন। এবার দুর্নীতির অভিযোগে মামলার অনুমোদন তাকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলাগুলো শুধু জাহাঙ্গীর আলমের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর প্রভাব ফেলবে না, বরং দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপরও একটি বড় ধরনের পরীক্ষার সামনে দাঁড় করাবে। এখন নজর থাকবে আদালত ও দুদকের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত