প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক।একটি বাংলাদেশ অনলাইন
লিভারপুলের জার্সিতে এক দশকের প্রায় কাছাকাছি সময়ের পথচলায় ইতোমধ্যেই কিংবদন্তির আসনে বসেছেন মিসরের ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ। লিভারপুলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই তারকা ফুটবলার শুধু ক্লাব নয়, আফ্রিকার ফুটবলেরও গর্ব। তবে দীর্ঘ ও উজ্জ্বল ক্যারিয়ারে এখনও একটি জায়গা অপূর্ণ রয়ে গেছে— বিশ্বের সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি ব্যালন ডি’অর। এবারই হয়তো সেই স্বপ্ন পূরণের সেরা সুযোগ এসে দাঁড়িয়েছে তার সামনে।
২০২৪-২৫ মৌসুম সালাহর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময় হিসেবে রেকর্ডে থাকবে। পুরো মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫২ ম্যাচে ৩৪ গোল এবং ২৩ গোলে সহায়তা করেছেন তিনি। এর মধ্যে শুধু প্রিমিয়ার লিগেই ৩৮ ম্যাচে ২৯ গোল ও ১৮ অ্যাসিস্ট করে মৌসুমের সর্বোচ্চ অবদানকারী খেলোয়াড় হয়েছেন। এই পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই ৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড লিভারপুলকে এনে দিয়েছেন তাদের ইতিহাসের ২০তম লিগ শিরোপা। মৌসুম শেষে ফুটবল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) বর্ষসেরা পুরস্কার এবং প্রিমিয়ার লিগের বর্ষসেরার খেতাব জিতে নিয়েছেন তিনি। এর আগে ২০১৭-১৮ মৌসুমেও প্রিমিয়ার লিগের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছিলেন সালাহ।
ক্লাব পর্যায়ে সালাহর সাফল্যের তালিকা নেহাতই দীর্ঘ। লিভারপুলের হয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪০৩ ম্যাচে ২৪৬ গোল এবং ১১৩টি অ্যাসিস্ট তার ঝুলিতে জমা হয়েছে। লিভারপুলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ জিতেছেন দুইবার, চ্যাম্পিয়নস লিগ একবার, এফএ কাপ, উয়েফা সুপার কাপ, ক্লাব বিশ্বকাপ এবং ইংলিশ সুপার কাপও উঠেছে তার হাতে। ইংলিশ লিগ কাপ জয় করেছেন তিনবার—এর মধ্যে দুবার লিভারপুলের হয়ে এবং একবার চেলসির হয়ে। এর বাইরে সুইস ক্লাব বাসেলের হয়ে দুবার সুপার লিগের শিরোপা জিতেছেন।
ব্যক্তিগত পুরস্কার ও স্বীকৃতিতেও পিছিয়ে নেই সালাহ। চারবার প্রিমিয়ার লিগের মৌসুমসেরা গোলদাতা, দুবার আফ্রিকার বর্ষসেরা ফুটবলার, তিনবার লিভারপুলের বর্ষসেরা খেলোয়াড়, একবার ফিফা পুসকাস অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী হওয়া ছাড়াও ইংল্যান্ডের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের খেতাব জিতেছেন দুবার। এত সাফল্যের পরও ব্যালন ডি’অর জেতা হয়নি তার। ফলে ক্যারিয়ারের এই শেষ অধ্যায়ে সেই শূন্যতা পূরণ করার জন্য তিনি অপেক্ষায় আছেন।
এবার ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পাওয়ার পর বিশ্লেষকরা বলছেন, সালাহ অন্যতম ফেভারিট। যদিও প্রতিযোগিতা তীব্র—ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার তরুণ তারকারা তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তবে প্রায় একক প্রচেষ্টায় লিভারপুলকে শিরোপা এনে দেওয়া এবং ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের দিক থেকে অন্যদের ছাড়িয়ে যাওয়াই তাকে একটু হলেও এগিয়ে রাখছে।
মোহাম্মদ সালাহ ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছেন, বয়স তার জন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা নয়। অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতা তাকে এখনও শীর্ষ ফর্মে রেখেছে। তাই ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে আছে, শেষ পর্যন্ত ব্যালন ডি’অরের স্বপ্ন পূরণ করে ক্যারিয়ারের পূর্ণতা অর্জন করতে পারেন কিনা মিসরের এই ফুটবল সম্রাট। সময়ই দেবে সেই প্রশ্নের উত্তর।