প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ শিশুসহ চার বাংলাদেশিকে ফেরত দিয়েছে মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে। বুধবার সকালে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় বিএসএফ তাদের আটক করে। পরে দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ফেরত পাঠানো হয়।
বিজিবির ঝিনাইদহ মহেশপুর ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভারতের বাঘাডাঙ্গা সীমান্তের ওপারে ১৯৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের জোড়পাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা চার বাংলাদেশিকে আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে দু’জন পুরুষ, একজন নারী এবং একটি শিশু রয়েছে। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করার দায়ে তাদের আটক করা হলেও মানবিক বিবেচনায় ফেরত প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এরপর সীমান্তের ৬০/২৯ আর পিলারের শূন্যরেখায় বিএসএফ ও বিজিবির কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং আটকদের পরিচয়পত্র যাচাই-বাছাই শেষে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফেরত আসা চার বাংলাদেশিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনানুগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মহেশপুর থানায় সাধারণ ডায়েরির মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
সীমান্ত অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই নানা কারণে স্থানীয়দের সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা দেখা যায়। কখনও কাজের সন্ধানে, কখনও পারিবারিক কারণে অথবা কখনও মানবপাচার চক্রের প্রলোভনে সীমান্ত অতিক্রমের ঝুঁকিপূর্ণ পথে পা বাড়ান অনেকেই। এ ধরনের ঘটনায় প্রায়ই সীমান্তে আটক বা ফেরত দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্ত অতিক্রমের এমন চেষ্টাগুলো শুধু আইনি ঝুঁকি নয়, বরং জীবন ও নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি তৈরি করে। তারা সাধারণ মানুষকে এ ধরনের ঝুঁকি না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে চার বাংলাদেশিকে ফেরত দেওয়ার এই ঘটনা আবারও সীমান্তে মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত সংকটের বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পারস্পরিক সমঝোতা এবং দ্রুত পদক্ষেপের ফলে বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো গেলেও সীমান্ত এলাকায় জনসচেতনতা এবং কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এসেছে।