প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) সাবেক ছাত্র মাশরুর রহমান সজীবকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আতোয়ার রহমান এই রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত মাশরুর রহমান সজীব যশোর শহরের পালবাড়ি তেঁতুলতলার বাসিন্দা মিজানুর রহমানের ছেলে এবং বর্তমানে রাজধানীর বাড্ডা এলাকার বৈশাখী সরণীর বাসিন্দা। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন আদালতের বিশেষ পিপি আব্দুল লতিফ লতা।
মামলার সূত্র অনুযায়ী, ২০১৩ সালে ওই কলেজছাত্রী যশোর শহরের একটি কলেজে ভর্তি হন এবং তার ফুফুর বাড়িতে থাকতেন। ওই সময় তার ফুফাতো বোনকে পড়ানোর জন্য গৃহশিক্ষক হিসেবে আসতেন যবিপ্রবির তৎকালীন ছাত্র মাশরুর রহমান সজীব। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
২০১৬ সালের ১৫ জুন, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সজীব ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। এরপর তাদের সম্পর্ক উভয় পরিবারের মধ্যে প্রকাশ পায়। এই সুযোগে সজীব মেয়েটিকে বিভিন্ন ভ্রমণস্থলে নিয়ে গিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিতেন। পাশাপাশি তিনি গোপনে তাদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখেন।
যখন মেয়েটি বিয়ের জন্য চাপ দিতে শুরু করেন, তখন সজীব তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই সজীবের মাকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে তার ছেলে ওই মেয়েকে বিয়ে করবে না এবং ইতিমধ্যে অন্য একজনকে বিয়ে করেছেন।
এরপর ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট ওই কলেজছাত্রী যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। আদালতের তৎকালীন বিচারক অভিযোগটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে নির্দেশ দেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় সজীবকে অভিযুক্ত করে ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর পিবিআই আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়।
সাক্ষ্যপ্রমাণের পর আসামি মাশরুর রহমান সজীবের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। বিচারক তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ২৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
রায় ঘোষণার সময় সজীব আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং বিচারক তাকে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।