পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তাদের দ্বিতীয় প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫
  • ৯৪ বার

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

পদোন্নতি বঞ্চিত অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনা কমিটি তাদের দ্বিতীয় প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে বুধবার দুপুরে জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রধান উপদেষ্টার কাছে তুলে দেন কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত চাকুরিতে পদোন্নতি বঞ্চনার শিকার হয়ে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনার জন্য ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এবং আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের প্রতিনিধিরা ছিলেন।

কমিটি প্রথম ধাপে উপসচিব ও তদূর্ধ্ব পদে বঞ্চনার আবেদনসমূহ পর্যালোচনা করে ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রথম প্রতিবেদন দাখিল করেছিল। দ্বিতীয় ধাপে প্রশাসন ক্যাডার ব্যতীত অন্যান্য ক্যাডারের তৃতীয় গ্রেড বা তদূর্ধ্ব পদে থাকা বঞ্চিত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হয়। নির্ধারিত সময়ে কমিটিতে ৩১৮টি আবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ৬৮টি আবেদন কমিটির আওতাবহির্ভূত এবং ৪০টি আবেদন তথ্যগতভাবে অসম্পূর্ণ হওয়ায় মোট ১০৮টি আবেদন বিবেচনা করা সম্ভব হয়নি। ফলে পর্যালোচনার আওতায় ছিল ২১০টি আবেদন।

কমিটি এই ২১০টি আবেদন যাচাই-বাছাই করতে ১৪টি সভা করেছে। প্রতিটি সভায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। আবেদন যাচাইয়ে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের লিখিত সুপারিশ, বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধির মতামত এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।

বিচার-বিশ্লেষণের পর কমিটি সুপারিশ করেছে যে গ্রেড-১ পদে ১২ জন, গ্রেড-২ পদে ৩২ জন এবং গ্রেড-৩ পদে ৩৪ জনসহ মোট ৭৮ জন কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি প্রদান করা যেতে পারে। সুপারিশকৃত পদোন্নতির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৬ জন কর্মকর্তাকে তিন ধাপ, ১৭ জন কর্মকর্তাকে দুই ধাপ এবং ৫৫ জন কর্মকর্তাকে এক ধাপ পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে কমিটি ১৩২ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করেনি। তাদের ক্ষেত্রে কেন পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়নি, তা প্রতিটি ঘটনায় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে সরকারের উদ্দেশ্য ছিল অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বঞ্চনার বিষয়টি সমাধান করা এবং ন্যায্য ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তা সমাজে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এই প্রতিবেদন তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনগত ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট তৈরি করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত