মহাকাশে অদ্ভুত এক অজানা সুড়ঙ্গের অস্তিত্বের ইঙ্গিত পেলেন গবেষকরা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫
  • ৩৪ বার
মহাকাশে অদ্ভুত এক অজানা সুড়ঙ্গের অস্তিত্বের ইঙ্গিত পেলেন গবেষকরা

২০ আগস্ট ২০২৫|  নিজস্ব সংবাদদাতা| একটি বাংলাদেশ অনলাইন

আমাদের সৌরজগতকে দূরবর্তী নক্ষত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করা এক বিশাল আন্তনাক্ষত্রিক সুড়ঙ্গ আবিষ্কার করেছেন জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের একদল বিজ্ঞানী। এত দিন ধরে মহাকাশকে শূন্য ও বৈশিষ্ট্যহীন শূন্যস্থান হিসেবে দেখা হলেও সাম্প্রতিক এই আবিষ্কার মহাশূন্যকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বোঝার সুযোগ তৈরি করেছে।

বিজ্ঞানীদের দাবি, মহাবিশ্বজুড়ে বিস্তৃত উত্তপ্ত সুড়ঙ্গ কাঠামো শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে ২০১৯ সালে উৎক্ষেপিত ইরোসিটা এক্স-রে টেলিস্কোপে সংগৃহীত হাজারো তথ্য বিশ্লেষণ করে। গবেষণায় দেখা যায়, সূর্য একটি অপেক্ষাকৃত কম ঘনত্বের বুদ্‌বুদের কেন্দ্রে অবস্থান করছে। এখান থেকেই প্রায় ৩০০ আলোকবর্ষব্যাপী বিস্তৃত সুড়ঙ্গ বের হয়েছে—যার একটি শাখা সেন্টোরাস নক্ষত্রমণ্ডলের দিকে এবং অন্যটি ক্যানিস মেজর নক্ষত্রমণ্ডলের সঙ্গে যুক্ত। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো নক্ষত্র তৈরির অঞ্চলগুলোর মধ্যকার বৃহত্তর এক শাখা ব্যবস্থার অংশ।

গবেষকরা জানিয়েছেন, আমাদের সৌরজগতের চারপাশে যে অঞ্চলটিকে “গরম বুদ্‌বুদ” বলা হয়, সেটি মূলত কোটি বছর আগে ঘটে যাওয়া সুপারনোভা বিস্ফোরণের ফল। বিস্ফোরণের চাপ গরম প্লাজমার তরঙ্গ সৃষ্টি করে গ্যাস ও ধুলাকে সরিয়ে দেয়, যার ফলে তৈরি হয় এই অদ্ভুত ফাঁপা অঞ্চল। এখান থেকেই পাওয়া গেছে আন্তনাক্ষত্রিক সুড়ঙ্গের অস্তিত্বের তথ্য।

ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের জ্যোতির্বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্রেইবার্গ বলেন,
“আমরা আগে জানতাম না সেন্টোরাসের দিকে একটি আন্তনাক্ষত্রিক সুড়ঙ্গ রয়েছে। শীতল আন্তনাক্ষত্রিক মাধ্যমের মধ্যে তৈরি ফাঁকটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১,৫০০ আলোকবর্ষ দূরের গাম নীহারিকা পর্যন্ত বিস্তৃত।”

গবেষণা বলছে, মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি প্রায় দুই হাজার ভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত। এর মধ্যে গ্যালাকটিক উত্তর তুলনামূলক শীতল, যেখানে গরম বুদ্‌বুদ ডিস্ক থেকে দূরে প্রসারিত হচ্ছে। এ ভিন্নতাই মহাকাশের নতুন রহস্য উন্মোচনে সাহায্য করেছে।

এই আবিষ্কার মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত