নগরের সমস্যা সমাধান সম্ভব সমন্বয় ও বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫
  • ৩৩ বার
নগরের সমস্যা সমাধান সম্ভব সমন্বয় ও বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে

২০ আগস্ট ২০২৫|  নিজস্ব সংবাদদাতা| একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকা শহরের বাসযোগ্যতা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গত বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত নাগরিক সংলাপে বিভিন্ন খাতের বিশিষ্টজনরা একমত হন যে, নগর সমস্যার সমাধান শুধুমাত্র সমন্বিত উদ্যোগ ও বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে সম্ভব। সেন্টার ফর গর্ভানেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এই সংলাপে রাজনৈতিক নেতা, স্থপতি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ২০২২ সালে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) গেজেট আকারে প্রকাশ করার পর থেকেই সংশোধন নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। এই পরিকল্পনায় ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) বাড়ানো হলে সুউচ্চ ভবন নির্মাণের কারণে পরিবেশ বিপর্যস্ত হতে পারে, আর এফএআর কমালে আবাসনের সংকট সৃষ্টি হবে। বিশিষ্টজনরা মনে করেন, পরিবেশ সুরক্ষার সঙ্গে সঙ্গে নগরবাসীর জন্য পর্যাপ্ত বাসস্থানের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

সংলাপে সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির বলেন, দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা ঢাকার উন্নয়নের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা। তিনি জানান, দেশের জন্য দরকার সর্বস্তরে নীতিবান ও সৎ ব্যক্তিত্ব। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনের ধারাবাহিকতা রাখা অপরিহার্য। বারবার ড্যাপ পরিবর্তনের ফলে আইন কঠিন ও জটিল হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, বাড়ি বানানোর পর তা ভাঙার মতো অপচয় এড়াতে প্রথমেই দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে এবং নিয়মিত সমন্বয় থাকতে হবে।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটওয়ারী ঢাকা বিকেন্দ্রীকরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যদি গ্রামগুলো উন্নত করা যায়, তবে ঢাকার উপর চাপ কমবে এবং নগরীর গুরুত্ব সঠিকভাবে ব্যালান্স করা সম্ভব হবে। সাবেক সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি বলেন, ঢাকার অনিয়মিত নির্মাণ ও সবুজ এলাকা কমে যাওয়ার ফলে নগরের সুরক্ষা ও বাসযোগ্যতা হুমকির মুখে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বড় ভূমিকম্পে চিপা গলির ভিতরের ভবনগুলোর অবস্থা বিপজ্জনক হবে।

সংলাপে অংশ নেওয়া অন্যান্য বিশিষ্টজনরা বলেন, ঢাকার উন্নয়নে সমন্বয় ও বিকেন্দ্রীকরণ ছাড়া কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়। ড্যাপ সংশোধন এবং এফএআর নির্ধারণের সঙ্গে সঙ্গে রাজউককে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা মুক্ত করতে হবে, যাতে নগর পরিকল্পনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে এবং পরিবেশ ও নাগরিক সুবিধা একসঙ্গে নিশ্চিত করা যায়।

এভাবে নাগরিক সংলাপ থেকে উঠে এসেছে যে, ঢাকা শহরের টেকসই উন্নয়ন ও বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত