ফুলবাড়িয়ায় অপচিকিৎসায় তরুণীর মৃত্যু, পল্লীচিকিৎসক গ্রেপ্তার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫
  • ২৯ বার

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় কথিত অপচিকিৎসার কারণে এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতের পরিবারের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে পুলিশ বুধবার রাতে অভিযুক্ত পল্লীচিকিৎসক সুনীল কুমার সরকারকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার পর এলাকায় চরম শোকের আবহ বিরাজ করছে এবং স্বাস্থ্য খাতে অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার চিত্র আবারো সামনে উঠে এসেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কালাদহ ইউনিয়নের হুরবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা রমেন চন্দ্র দাসের ২২ বছর বয়সী মেয়ে রীতা রানী দাস গত ১৭ আগস্ট রাতে পারিবারিক অভিমানে কীটনাশক পান করেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় স্বজনেরা তাকে দ্রুত নিয়ে যান উপজেলার আছিম বাজারের একটি বেসরকারি ক্লিনিক ‘প্রত্যাশা মেডিকেল সেন্টার’-এ। সেখানে দায়িত্ব নেন পল্লীচিকিৎসক সুনীল কুমার সরকার, যিনি নিবন্ধিত (রেজিস্টার্ড) চিকিৎসক নন। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় কোনো চিকিৎসা সরঞ্জাম বা জরুরি ব্যবস্থা ছাড়াই তিনি রীতাকে টানা দুইদিন ধরে নিজ ক্লিনিকে ভর্তি রেখে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা চালিয়ে যান। এ সময় রীতার শারীরিক অবস্থা ক্রমেই অবনতি হতে থাকে।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, যখন রীতার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে, তখন সুনীল কুমার তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার আগেই, পথে রীতা রানী দাসের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণ ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং চিকিৎসকের শাস্তি দাবি করে বিক্ষোভও করে।

ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, গ্রেপ্তার সুনীল কুমার সরকার চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধিত নন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি কোনো অনুমোদিত ডিগ্রি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। পুলিশের দাবি, তার অবহেলা ও অপচিকিৎসার কারণেই এই তরুণীর জীবন অকালে ঝরে গেছে।

নিহতের পরিবার জানিয়েছে, রীতা হরমোনজনিত সমস্যার কারণে অনেক সময় ছেলেদের পোশাক পরতেন, তবে কোনো মানসিক সমস্যায় ভোগেননি। তারা বলছেন, কিশোরী বয়স থেকেই তিনি মাঝে মাঝে পারিবারিক অভিমানে রাগ দেখাতেন, তবে এবার বিষপানের মতো আত্মঘাতী পদক্ষেপ নেওয়ার পরও তাকে বাঁচানোর মতো সঠিক চিকিৎসা পেলে হয়তো মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক পরিণতি ঘটতো না। পরিবারের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচার এবং অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

এদিকে ঘটনাটি ফুলবাড়িয়া ও আশপাশের গ্রামগুলোতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করছে, গ্রামের অলিগলিতে অসংখ্য ভুয়া ডাক্তার ও অদক্ষ পল্লীচিকিৎসক গড়ে উঠেছে, যারা জীবন নিয়ে খেলছে। স্বাস্থ্য সেক্টরে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির অভাবের কারণে এসব ভুয়া চিকিৎসকের দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে। এ ঘটনার মাধ্যমে আবারো সামনে এলো গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে অবহেলার কঠিন বাস্তবতা।

চিকিৎসক গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় মানুষের দাবি, কেবল গ্রেপ্তার নয়, এ ধরনের ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে তাদের শিকড় উপড়ে ফেলা প্রয়োজন, যাতে আর কোনো নিরপরাধ প্রাণ অকালে ঝরে না যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত