প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
পাবনার আটঘরিয়ায় সংঘবদ্ধ চোরদের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন আসাদ হোসেন নামে এক যুবক। বুধবার (২০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মাছপাড়া ইউনিয়নের পারখিদিরপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত আসাদ হোসেনের বয়স ছিল মাত্র ২৬ বছর। তিনি ওই গ্রামের উকিল আলীর ছেলে এবং পেশায় একজন জেলে ও কৃষিশ্রমিক ছিলেন। পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ হিসেবে তিনি এলাকায় পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, রাতের খাবারের পর আসাদের স্ত্রী ঘরের ভেতরে ছিলেন। হঠাৎ করেই জানালা দিয়ে কয়েকজন চোর মোবাইল ফোন চুরি করে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় আসাদের স্ত্রী চিৎকার শুরু করলে আসাদ দ্রুত বাইরে বেরিয়ে এসে চোরদের ধাওয়া দেন। তিনি এক পর্যায়ে এক চোরকে ধরে ফেলতে সক্ষম হন। কিন্তু তাতেই বিপদ নেমে আসে। সঙ্গে থাকা অন্যান্য চোর তাকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যেই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আসাদ। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া এবং এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা চোরদের ধাওয়া করে এক পর্যায়ে একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। আটক ব্যক্তির নাম সজীব, সে একই উপজেলার সোনাকান্দর গ্রামের খলিলের ছেলে।
নিহতের প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় চুরি-ডাকাতি ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। দিনের বেলাতেও চোরের উপদ্রব দেখা যাচ্ছে। গরুর খামারি কিংবা কৃষকরা নিজেদের সম্পদ রক্ষায় রাত্রে পাহারার ব্যবস্থা করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, এলাকায় প্রকাশ্যে জুয়ার আসর বসছে এবং জুয়ায় হেরে যাওয়া অনেকেই পরবর্তীতে চুরির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের দাবি, পুলিশের চোখের সামনে এই অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। ফলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে এবং ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি আরও বলেন, আটক সজীবকে আদালতের মাধ্যমে পাবনা কারাগারে পাঠানো হচ্ছে এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
এদিকে গ্রামজুড়ে আতঙ্কের পাশাপাশি শোকের আবহ বিরাজ করছে। যুবক আসাদের অকাল মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন এবং প্রতিবেশীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের অপরাধ দমনে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে আর কোনো নিরপরাধ মানুষের প্রাণ চুরি-ডাকাতির শিকার না হয়।