দিল্লির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান, আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে ভারতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রাশেদ প্রধানের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫
  • ৯২ বার

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ভারতের ভূমিকা ও আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান। জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এক তীব্র প্রতিক্রিয়ামূলক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছেন যে, দিল্লি সরকার সরাসরি শেখ হাসিনার পক্ষ নিয়ে সক্রিয় হয়েছে এবং আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহুমুখী তৎপরতা চালাচ্ছে। তার দাবি, এই প্রক্রিয়াকে রূপকভাবে বলা যায়, “ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।”

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে রাশেদ প্রধান বলেন, ৫ আগস্ট ক্ষমতা হারানোর পর আওয়ামী লীগ তার রাজনৈতিক অস্তিত্ব নিয়ে সংকটে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি সরকার তাদের পুনরুজ্জীবিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনার নামে রাজনৈতিক কার্যালয় উদ্বোধন, কলকাতায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন, লন্ডনে লবিং ফার্ম নিয়োগ, যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক আইনজীবী নিয়োগ এবং জাতিসংঘে আপিল—এসব কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করে ভারত সরকার সরাসরি আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিচ্ছে এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের নতুন কৌশল নিয়েছে।

রাশেদ প্রধান তার বিবৃতিতে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর কার্যক্রমের দিকেও আঙুল তোলেন। তার অভিযোগ, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতাকে রক্ষার জন্য আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল শক্তিকে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব পরিহার করে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তার ভাষায়, “হিন্দুস্তানি আধিপত্যবাদী আগ্রাসন মোকাবিলায় আমাদের রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি নিতে হবে।”

তিনি আরও সতর্ক করে দেন যে, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনে ভারতের অব্যাহত তৎপরতা প্রতিহত করা না গেলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সরাসরি হুমকির মুখে পড়বে। এ প্রসঙ্গে তিনি দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তি, তরুণ সমাজ ও নাগরিক সমাজকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশেদ প্রধানের এই বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। কারণ, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক সহযোগিতা ও দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার ভিত্তিতে গড়ে উঠলেও, দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভারসাম্যে ভারতীয় হস্তক্ষেপের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সরাসরি “যুদ্ধ ঘোষণা”র মতো বক্তব্য এতোটা তীব্র রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে, যা স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসছে।

এদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দলীয় সূত্র বলছে, বিদেশে কার্যালয় খোলা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লবিং করার বিষয়টি তাদের সাংগঠনিক কৌশলের অংশ, যা কোনো ষড়যন্ত্র নয় বরং রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ। অন্যদিকে সরকারি পর্যায় থেকেও রাশেদ প্রধানের এই বক্তব্যের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ধরনের বক্তব্য আরও উত্তেজনা তৈরি করবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। অনেকের মতে, অভ্যন্তরীণ সংকটের সমাধান না খুঁজে ভারতকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির অবস্থান নেওয়া ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত