ঝিকরগাছায় চোরাই মোবাইল ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে দুই পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫
  • ৩৩ বার

প্রকাশ: ২১ আগস্ট  ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন

যশোরের ঝিকরগাছা থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে চোরাই ভারতীয় মোবাইল ফোন আটক করে আর্থিক সুবিধা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত বা ‘ক্লোজ’ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন এসআই রাজু এবং এএসআই ওয়ালিদ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর মোহাম্মদ গাজী। তিনি জানান, বিট কর্মকর্তা হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ এবং স্থানীয়দের বয়ানে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাদের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, যশোর-বেনাপোল সড়কের নাভারন পুরোনো বাজারের ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে চোরাই মোবাইল ফোন ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে এসআই রাজু ও এএসআই ওয়ালিদের বিরুদ্ধে। এর আগে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায়ও তাদের বিরুদ্ধে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগ ছিল।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট শার্শা ও ঝিকরগাছা থানা পুলিশ নাভারনের সাইফুলের দোকানে অভিযান চালিয়ে ৫৩টি ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। তবে অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী লেন্টু হাজিরের মধ্যস্থতায় পুলিশ মোটা অঙ্কের টাকা ও দুটি ফোন হাতিয়ে নিয়ে সাইফুলকে ছেড়ে দেয়। এই ঘটনার বিষয়ে দুই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি অস্বীকার করেন।

এরপর রোববার দুপুরে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যাড অপস) নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ পুনরায় সাইফুলের দোকানে অভিযান চালায়। এ সময় সাইফুলকে আটক করা হয় এবং তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বাড়ি থেকে আরও ৪৪টি ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে আটক সাইফুলকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি চোরাই ফোন বিক্রির কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

অভিযুক্ত এসআই রাজু সাংবাদিকদের বলেন, “আমি ঢাকায় অফিসিয়াল কাজে এসেছি। তবে শুনেছি আমাদের দু’জনকেই পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে।”

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যাড অপস) আবুল বাশার জানান, অভিযুক্তদের ক্লোজ করার খবর তার কাছে নেই, তবে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয় ও পুলিশের উদ্বেগ প্রকট, কারণ চোরাই পণ্য ব্যবসা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগগুলো জনগণের মধ্যে পুলিশি বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরায় ঘটতে দেয়া হবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত