প্রকাশ: ২২ আগস্ট ‘২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
নোয়াখালীর সেনবাগে জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বৃহৎ পরিসরের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলা এ অভিযানে উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের ছাতারপাইয়া বাজার এবং আশপাশের এলাকায় দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সেনবাগ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। তাকে সহযোগিতা করেন সেনবাগ সেনা ক্যাম্পের ইনচার্জ ক্যাপ্টেন পারভেজ মোশারফের নেতৃত্বাধীন দুই প্লাটুন সেনা সদস্য, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাউছার আক্তার কাউছারী, সোনাইমুড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দ মো. মুরাদ ইসলাম, বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীল আল জান্নাত এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য।
অভিযানের অংশ হিসেবে ছাতারপাইয়া পূর্ব বাজার ও পশ্চিম বাজারের রাস্তার দুই পাশের দখল করা স্থাপনা বুলডোজারের সাহায্যে ভেঙে ফেলা হয়। একই সঙ্গে ছাতারপাইয়া বাজার থেকে দক্ষিণমুখী চৌমুহনী খাল, পশ্চিমমুখী সোনাইমুড়ী খাল এবং উত্তরমুখী ছিলাদী খালের ওপর অবৈধভাবে গড়ে ওঠা শতাধিক দোকানপাটও উচ্ছেদ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণের কারণে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং আশেপাশের এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় এই খালগুলো ছিল স্থানীয় বাণিজ্যের প্রধান রক্তধারা। বড় সাম্পান নৌকা দিয়ে ব্যবসায়ীরা নোয়াখালীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র চৌমুহনী থেকে মালপত্র পরিবহন করতেন। প্রবাহমান পানি চৌমুহনী হয়ে রহমখালী খাল ও জেলার অন্যান্য জলপথ হয়ে মেঘনা নদীতে গিয়ে মিশত। কিন্তু ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যা এবং ২০২৫ সালের ভারী বর্ষণের পর সেনবাগের সর্বত্র জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করে। এলাকাবাসীর অভিযোগ ও আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন খাল দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে উদ্যোগ নেয়।
এর আগে সেনবাগের ছমির মুন্সিহাট, কাবিলপুরের গরিবের ৩০০ ফুট, লালপুর, অর্জুনতলা ইউনিয়নের হাজীরহাট বাজার এবং সেবারহাট বাজারে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। এসব উদ্যোগে কিছুটা স্বস্তি এলেও জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য আরও ব্যাপক পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
তাদের অভিযোগ, এখনো সেনবাগ উপজেলার ২নং কেশারপাড় ইউনিয়নের কানকিরহাট ও ডমুরুয়া ইউনিয়নের গাজীরহাট বাজারে বহু অবৈধ স্থাপনা দখল করে রাখা হয়েছে। তারা দাবি করেন, অবিলম্বে সেসব বাজারেও একই ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হোক, যাতে এলাকার পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হয় এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মেলে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জলাবদ্ধতা নিরসনের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে এবং কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনাকে ছাড় দেওয়া হবে না।