প্রকাশ: ২২ আগস্ট ‘২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছেন শামীমা নামের এক নার্সিং শিক্ষার্থী। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার একটি তিনতলা ভবনের নিচতলায় ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে তিনি নিজের জীবন শেষ করেন। তার কক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটে লেখা ছিল—“এই পৃথিবীতে আমার কেউ নেই। যে ছিল সে চলে গেছে। আমার আর অধিকার নেই এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার। আমার ইচ্ছের কোনো দাম নেই। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নহে। আমি ইচ্ছে করেই আমার এই জীবন শেষ করে দিলাম।”
পারিবারিক সূত্র জানায়, শামীমাকে ছোটবেলা থেকেই লালন-পালন করছিলেন তার পালক মা রাজিয়া খাতুন। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবিকা পদে কর্মরত। রাজিয়া খাতুন বলেন, আড়াই বছর বয়সে শামীমাকে তার মায়ের কাছ থেকে নিয়ে আসেন এবং এরপর থেকে পরিবারে আর কেউ তার খবর নেয়নি। তিনি মেয়েকে এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করিয়ে নার্সিংয়ে ভর্তি করান। দীর্ঘদিন একসঙ্গে থেকে মা-মেয়ের মতো সম্পর্ক গড়ে উঠলেও বুধবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই ঘটে যায় এ মর্মান্তিক ঘটনা।
পালক মা রাজিয়া খাতুন জানান, ঘটনার সময় ভবনের নিচতলায় শামীমা একা ছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। পরে বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা টের পেয়ে দ্রুত স্থানীয় পুলিশকে খবর দেন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করে। সুরতহাল রিপোর্টে শামীমার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে তিনি জানান।
স্থানীয়রা বলছেন, মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে প্রশাসন ও পুলিশ তদন্ত করছে। তবে তার রেখে যাওয়া চিরকুটই প্রাথমিকভাবে গভীর মানসিক অবসাদ ও একাকিত্বকে দায়ী করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সামাজিক বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা সমাজে বাড়তে থাকা মানসিক চাপ ও একাকিত্বের দিকটি নতুন করে সামনে নিয়ে আসে। তারা পরিবার ও সমাজকে আরও আন্তরিকভাবে তরুণ-তরুণীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।