যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শরিফুল খান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতি পেলেন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫৩ বার

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা।  একটি বাংলাদেশ অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গৌরবের এক মুহূর্ত। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শরিফুল এম খান মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। এটি মার্কিন সামরিক ইতিহাসে প্রথম কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি হিসেবে এত উচ্চ পদমর্যাদা লাভের ঘটনা।

শরিফুল খানকে এই পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন জড়িত, যিনি একযোগে ৫৫ জন সামরিক কর্মকর্তাকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে উন্নীত করার অনুমোদন দেন। সম্প্রতি পেন্টাগনে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের শপথবাক্য পাঠ করানো হয়, যেখানে মার্কিন বিমানবাহিনীর ভাইস চিফ জেনারেল শন ব্র্যাটোন নিজে শরিফুল খানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

শফিকুল খানের পদোন্নতি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্য নতুন উদাহরণ ও অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এম. ওসমান সিদ্দিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে শরিফুল খানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা জানিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে শরিফুল খান ‘গোল্ডেন ডোম ফর আমেরিকার’ স্টাফ ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তার কর্মজীবন দীর্ঘ এবং বহুমাত্রিক; মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ, স্যাটেলাইট অপারেশন, স্পেস সিস্টেম, লঞ্চ ও ন্যাশনাল রিকনাইসেন্স অফিসে স্যাটেলাইট অপারেটর হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০১ সালে কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটিতে মোতায়েন ছিলেন তিনি।

শরিফুল খান ১৯৯৭ সালে ইউনাইটেড স্টেটস এয়ার ফোর্স একাডেমি থেকে পলিটিক্যাল সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ওয়েবস্টার ইউনিভার্সিটি, ন্যাশনাল ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স কলেজ, স্কুল অব অ্যাডভান্সড এয়ার অ্যান্ড স্পেস স্টাডিজ, নেভাল ওয়ার কলেজ, এমআইটি এবং জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়সহ মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাধিক উচ্চতর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন কর্মকর্তার এই পদোন্নতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে বৈচিত্র্য ও সক্ষমতার প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির সক্ষমতা ও অবদানের স্বীকৃতিও বটে।

শরিফুল খানের এই অর্জন শুধুমাত্র সামরিক খাতেই নয়, সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের জন্য গৌরব এবং প্রেরণার এক নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত