প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আমির হোসেন বাবু নামে এক প্রধান শিক্ষক। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে পরাজিত হন তিনি। তাঁর অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় নয়টার দিকে উপজেলার রৌহাবাড়ি চারমাথা এলাকায় সোনামুখী থেকে আসা যাত্রীবোঝাই একটি অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা নির্জনা পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর অটোরিকশাটি উল্টে গিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ সময় অটোরিকশায় থাকা একাধিক যাত্রী গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে প্রেরণ করেন। তাদের মধ্যেই ছিলেন বেলতৈল ইআর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন বাবু।
গুরুতর অবস্থায় তাঁকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন। তবে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও রাত নয়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের ছেলে বুলবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনায় বাবার শরীরে গুরুতর আঘাত লাগে, যা শেষ পর্যন্ত জীবন কেড়ে নেয়।
আমির হোসেন বাবু ছিলেন উপজেলার পশ্চিম খুকশিয়া গ্রামের মৃত আজিত তালুকদারের পুত্র। শিক্ষকতা জীবনে তিনি এলাকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিবেদিতপ্রাণ ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বেলতৈল ইআর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বাবু স্যার শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন পথপ্রদর্শক, যিনি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সমাজের উন্নয়নেও অবদান রেখেছেন।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, ওই সড়কে দীর্ঘদিন ধরে অবাধ গতিতে যান চলাচল করে এবং পর্যাপ্ত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে এবং এর শিকার হবে নিরীহ মানুষ।
প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন বাবুর মৃত্যুতে সহকর্মী শিক্ষকদের মধ্যেও শোক নেমে এসেছে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তা জানিয়ে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেছেন এবং পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়েছেন। শিক্ষা পরিবার মনে করছে, তাঁর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং পুরো সমাজের জন্যই এক বিরাট ক্ষতি।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল দেশের সড়ক নিরাপত্তার নাজুক অবস্থাকে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যেভাবে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে, তা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে, যেন তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনে এবং আর কোনো পরিবার এভাবে প্রিয়জন হারানোর বেদনায় ভেঙে না পড়ে।
আমির হোসেন বাবুর অকাল প্রয়াণে কাজিপুরের মানুষ শোকাহত। শিক্ষা ও সমাজে তাঁর অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।