ডাকসু নির্বাচন ঘিরে আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ২৮ বার

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ‘২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের মধ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ঝড় বইছে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ক্যাম্পাস। ভোটার শিক্ষার্থীরা নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। প্রার্থীরা একে অপরকে অভিযুক্ত করছেন বিধি ভঙ্গের জন্য, আবার নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। এ পরিস্থিতি নির্বাচন ঘিরে অস্বচ্ছতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

গত শনিবার ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি অমর একুশে হলের রিডিংরুমে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, যা নির্বাচনি বিধিমালা ৬(চ) ধারা অনুযায়ী নিষিদ্ধ। তার সঙ্গে ছিলেন একই প্যানেলের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী মো. মেহেদী হাসান। অভিযোগ হাতে পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। তারা জানান, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের জবাবে আবিদুল ইসলাম খান দাবি করেছেন, তিনি শিক্ষার্থীদের সৌহার্দপূর্ণ আহ্বানে রিডিংরুমে গিয়েছিলেন এবং এটি প্রচারকাজের অংশ নয়। তার মতে, প্রতিদ্বন্দ্বীরা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় দুর্বল হয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের ভিপি প্রার্থী বিন ইয়ামিন মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রদলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তা আমলে নেওয়া হচ্ছে না, অথচ তাদের সামান্য কাজকেও বিধি ভঙ্গ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, টিএসসি প্রাঙ্গণে ব্যানার-ফেস্টুন টাঙানো কি প্রচারবিধি লঙ্ঘন নয়?

ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী এসএম ফরহাদও অভিযোগ করেছেন যে, প্রশাসন নির্বাচনি বিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ করছে না। শিক্ষার্থীদের “কমফোর্ট জোনে” প্রবেশ করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা স্পষ্টতই নিয়ম ভঙ্গের শামিল। একই সঙ্গে তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এবং তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চলছে। এর আগে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদারও অভিযোগ করেছিলেন যে, ছাত্রদলের প্রার্থী একাধিকবার বিধি ভঙ্গ করলেও প্রশাসন নির্লিপ্ত থেকেছে।

অন্যদিকে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্বাধীনতার আদর্শকে অবজ্ঞা করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অনুমোদন দিয়েছে। তার দাবি, কেবল ছাত্রদলই শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে এবং তারা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চায়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেও নির্বাচন ঘিরে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। প্রাধ্যক্ষ ও সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিমের এক বৈঠকে কিছু সদস্য সমান সুযোগ সৃষ্টির যুক্তি দেখিয়ে নির্বাচন পেছানোর প্রস্তাব দেন। তবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান স্পষ্ট করেছেন, বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে নির্বাচন পিছানো হবে না। শনিবার কালো দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “যতক্ষণ সবাই আমার হাত ধরে থাকবেন, আমি মাঠে থাকব। যদি হাত ছেড়ে দেন, তবে আমি স্পষ্ট জানিয়ে দেব কোথায় বাধা তৈরি হচ্ছে।” তার এই বক্তব্যকে ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, অনেকেই একে নির্বাচন বানচালের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

বিভিন্ন প্যানেলের পক্ষ থেকেও নির্বাচন বানচালের অভিযোগ তোলা হয়েছে। ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী আবু সাদিক কায়েম বলেন, প্রশাসনের ভেতরে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত ‘ডাকসু ফর চেঞ্জ’ প্যানেল এবং বাম জোটের ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, ভোটকেন্দ্র বৃদ্ধি, পরীক্ষা স্থগিত, ব্যালটে ছবি সংযুক্তকরণসহ নানা দাবি তুলেছে।

এছাড়া, একক প্রার্থী এবি জুবায়ের প্রার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্টের দাবি তুলেছেন। তার অভিযোগ, কিছু “ফ্যাসিবাদী শিক্ষক” এখনো প্রশাসনের ভেতরে সক্রিয়, যারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

সব মিলিয়ে ডাকসু নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে উদ্বেগ ও উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রার্থীরা যেমন একে অপরকে আক্রমণ করছেন, তেমনি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে প্রার্থিতা বাতিল অথবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার। ফলে শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা দিন দিন তীব্র হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত