সীমানা পুনর্নির্ধারণের চূড়ান্ত দিনে ব্যস্ত সময় পার করছে নির্বাচন কমিশন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫৩ বার
সীমানা পুনর্নির্ধারণের চূড়ান্ত দিনে ব্যস্ত সময় পার করছে নির্বাচন কমিশন

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

আজ বুধবার সারা দেশের বিভিন্ন আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তির শেষ দিন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে সকাল থেকেই শুরু হয়েছে এই গুরুত্বপূর্ণ শুনানি কার্যক্রম, যেখানে উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট আসনের প্রতিনিধিরা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরছেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রথম পর্বে পঞ্চগড়-১ ও ২, রংপুর-১, কুড়িগ্রাম-৪, সিরাজগঞ্জ-২, ৫ ও ৬, এবং পাবনা-১ আসনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিকেল আড়াইটা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত টাঙ্গাইল-৬, জামালপুর-২, কিশোরগঞ্জ-১, সিলেট-১, ফরিদপুর-১ ও ৪, মাদারীপুর-২ ও ৩, এবং শরীয়তপুর-২ ও ৩ আসনের শুনানি গ্রহণের কথা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক দাবি-আপত্তি জমা পড়েছে। গত ১০ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৮৩টি আসন ঘিরে ১ হাজার ৭৬০টি আবেদন কমিশনে জমা পড়ে। এসব আবেদনের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে ভৌগোলিক কাঠামো, জনসংখ্যার ভারসাম্য, প্রশাসনিক সুবিধা এবং ভোটারদের স্বার্থের কথা তুলে ধরা হয়েছে। কমিশন ইতোমধ্যেই গত রোববার থেকে এসব আবেদন নিয়ে ধারাবাহিক শুনানি শুরু করে, যা আজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সব তথ্য যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ আজকের কার্যক্রম শেষে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এ সময় তিনি কতগুলো দাবি গ্রহণ করা হলো, কতগুলো বাতিল হলো এবং কোন কোন আসনের সীমানা পরিবর্তিত হবে—সেসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা দেবেন।

সীমানা পুনর্নির্ধারণ বাংলাদেশে প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। এটি শুধু রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য নয়, বরং সাধারণ ভোটারদের জন্যও বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে একটি ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড অন্য আসনে যুক্ত হলে ভোটারদের প্রতিনিধিত্বের ধরণ পাল্টে যায়, প্রার্থীদের শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র নতুনভাবে তৈরি হয়।

এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে সব সময়ই থাকে রাজনৈতিক দলের নজর। ক্ষমতাসীন থেকে শুরু করে বিরোধী দলগুলো বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ তোলে যে সীমানা পরিবর্তনের মাধ্যমে কারও পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে কি না। যদিও নির্বাচন কমিশন বারবার দাবি করে আসছে যে, তারা সংবিধান ও আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে থাকে এবং কোনোভাবেই রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে না।

আজকের শুনানিকে ঘিরে কমিশন ভবনে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট আসনের সংসদ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও আইনজীবীরা। তারা নিজেদের বক্তব্যে বিভিন্ন প্রমাণ ও যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। কেউ কেউ সীমানা পরিবর্তনের দাবিতে সরব ছিলেন, আবার কেউ বিদ্যমান অবস্থান বজায় রাখার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন।

সব মিলিয়ে আজকের দিনটি নির্বাচন কমিশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই প্রকাশ পাবে আসনভিত্তিক নতুন সীমানা, যা দেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের নির্বাচনী কৌশল থেকে শুরু করে ভোটারদের আচরণ পর্যন্ত বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলবে। তাই রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আজ নিবদ্ধ রয়েছে আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত এই শুনানির দিকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত