প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতার অষ্টম বার্ষিকীতে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) আবারও ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার দাবি জানিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুর্দশা তুলে ধরে জানায়, এখনো তারা নিপীড়ন, রাষ্ট্রহীনতা এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির শিকার হচ্ছেন।
ওআইসি’র বিবৃতিতে বলা হয়, এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা এখনও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বাংলাদেশে দীর্ঘ আট বছর ধরে অবস্থানরত এই জনগোষ্ঠী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও মৌলিক মানবাধিকারের সীমাহীন সংকটে রয়েছে। অপরদিকে মিয়ানমারের ভেতরে হাজার হাজার রোহিঙ্গা আজও হত্যাযজ্ঞ, বৈষম্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মুখোমুখি হচ্ছেন।
সংস্থাটি আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছে। বিশেষত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগকে ওআইসি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে তারা জোর দিয়ে বলেছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অবশ্যই আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা মেনে চলতে হবে, যাতে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও অস্তিত্ব সুরক্ষিত থাকে।
বিবৃতিতে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে, কারণ সীমিত সম্পদ নিয়েও দেশটি এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। একইভাবে ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মানবিক সহায়তার কথাও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে শরণার্থীদের টিকে থাকার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে সংস্থাটি মনে করে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা ছাড়া এই সংকট নিরসন সম্ভব নয়। তাই মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে কার্যকর ও বাস্তব পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
ওআইসি তার বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেছে, রোহিঙ্গা সংকট কেবল একটি আঞ্চলিক মানবিক সংকট নয়, বরং এটি বৈশ্বিক মানবাধিকারের প্রশ্ন। তাই সংকটের মূল কারণগুলো নিরসনে আন্তর্জাতিক সংহতি জোরদার করতে হবে এবং দীর্ঘস্থায়ী ও ন্যায়সংগত সমাধানের দিকে এগোতে হবে।
অষ্টম বার্ষিকীর এই দিনে ওআইসি রোহিঙ্গাদের সাহস ও দৃঢ়তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের অধিকার রক্ষায় প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। সংস্থাটি মনে করে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ছাড়া এই মানবিক বিপর্যয়ের প্রকৃত সমাধান সম্ভব নয়, আর সে কারণেই বিশ্ব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রোহিঙ্গাদের ন্যায্য অধিকার ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় পদক্ষেপ নিতে হবে।