প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
চট্টগ্রামে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র, যারা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ছবি ও পদবি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ফেসবুক, মেসেঞ্জার এবং হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তারা ভুয়া আইডি খোলার পাশাপাশি অপরিচিত মোবাইল নম্বর দিয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। সিএমপির পক্ষ থেকে এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে প্রতারণামূলক বলে চিহ্নিত করে জনগণকে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে সিএমপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া এক ঘোষণায় জানানো হয়, প্রতারক চক্র নিজেদের পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে এবং অফিসিয়াল ছবি ও ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। মূলত তারা আর্থিক দাবি জানিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে। সিএমপি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এ ধরনের যোগাযোগ সম্পূর্ণ ভুয়া এবং কোনো অবস্থাতেই অপরিচিত নম্বর বা ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আইডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো যাবে না। যদি কেউ পুলিশ পরিচয়ে অর্থ দাবি করে তবে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য সংরক্ষণ করে নিকটস্থ থানায় অথবা সিএমপি কন্ট্রোল রুমে (০১৩২০-০৫৭৯৯৮) জানাতে হবে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র সহকারী কমিশনার মাহমুদা বেগম জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের একাধিক অভিযোগ সিএমপির কাছে এসেছে। প্রতারকরা সিএমপির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ছবি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং আর্থিক প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। তিনি বলেন, “কেউ এই ধরনের ভুয়া বার্তা বা কল পেলে কোনোভাবেই প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না এবং অর্থ লেনদেনে যাবেন না। এতে প্রতারকরা সুযোগ পাবে। বরং দ্রুত পুলিশের কাছে তথ্য জানানো জরুরি।”
এসি মাহমুদা আরও জানান, প্রতারক চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে ইতোমধ্যে পুলিশের গোয়েন্দা ইউনিটসহ বিশেষায়িত টিম মাঠে কাজ করছে। যেকোনো সময় প্রতারক চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হতে পারে।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তার যেমন সাধারণ মানুষের জীবনে সুবিধা এনেছে, তেমনি অপরাধীদের জন্যও নতুন নতুন প্রতারণার পথ খুলে দিয়েছে। বিশেষ করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম, ছবি ও পদবি ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালালেও সচেতনতার ঘাটতির কারণে মানুষ প্রতিনিয়ত এই ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ মানুষকে প্রযুক্তি ব্যবহার সম্পর্কিত আরও সচেতন হতে হবে। অপরিচিত নম্বর থেকে কোনো দাবি এলে তা যাচাই না করে সাড়া দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি শনাক্তে ব্যবহারকারীদেরও সতর্ক হতে হবে এবং সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ আবারও জানিয়েছে, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া প্রতারণা প্রতিরোধ সম্ভব নয়। তাই প্রতারণার যে কোনো ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে অবহিত করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাই হবে এই ধরনের অপরাধ দমনের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।