সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ অনুমোদন দিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৩৭ বার
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ অনুমোদন দিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৫। নিজস্ব সংবাদদাতা। একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দিয়েছে। আপিল শুনানি পুনরায় শুরু হবে ২১ অক্টোবর। বুধবার সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ এই সিদ্ধান্ত দেন।

শুনানির শুরুতে প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে কার্যকর সমাধান চায় আপিল বিভাগ, যাতে এটি বার বার বিঘ্নিত না হয়। ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী, অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে রায় দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে করা হাইকোর্টের আপিল মঞ্জুর করেই এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

গত বছরের অক্টোবরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওই রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন। এর আগে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ আরও চার বিশিষ্ট ব্যক্তি রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। অন্য চারজন হলেন তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া এবং জাহরা রহমান। এছাড়া ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারও রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয় ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে। এই ব্যবস্থার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম সলিমউল্লাহসহ কয়েকজন ১৯৯৮ সালে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করে। পরবর্তীতে বিশেষ বেঞ্চে চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট রায় ঘোষণা করা হয়, যা সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করে এবং সরাসরি আপিল করার অনুমতিও প্রদান করে।

২০০৮ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসে। তবে ২০১১ সালে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় দেন। এখন আপিল বিভাগের অনুমতির ফলে সেই রায়ের পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা আগামী ২১ অক্টোবর থেকে শুনানি শুরু হবে।

এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার কাঠামো এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলো এবং নাগরিক সমাজ এই শুনানির ফলাফল ও তার পরবর্তী প্রভাবকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আপিলের মাধ্যমে যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে তা ভবিষ্যতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত