২৭ আগস্ট ২০২৫| নিজস্ব সংবাদদাতা| একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইটিডিইউ)-এর পরিচালক বি এম মইনুল হোসেন বলেছেন, “যদি তথ্য অ্যামাজন, ফেসবুক বা গুগলের মতো বহুজাতিক সংস্থার হাতে থাকে, তবে এর নিয়ন্ত্রণ দেশের হাতে থাকবে না। তথ্যের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে নিজস্ব ক্লাউড প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেবা গ্রহণ করতে হবে এবং মিডিয়াকেও এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।” বুধবার রাজধানীর বনানী ক্লাবে অনুষ্ঠিত ওপেন-স্ট্যাক সভরেইন ক্লাউড বিষয়ক কর্মশালায় তিনি এই কথা বলেন।
বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ) আয়োজিত এই কর্মশালায় প্লেক্সাস ক্লাউডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোবারক হোসেন বলেন, “গুগল কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি মূলত একটি মার্কেটিং কোম্পানি। প্রযুক্তি জায়ান্টরা আমাদের ডেটা ব্যবহার করে বিপুল মুনাফা অর্জন করছে। আমরা নিজেদের সম্পদ তাদের হাতে তুলে দিচ্ছি। জিমেইলের একটি বিন্দু পরিবর্তন করলেই আমাদের স্মার্টফোন অচল হয়ে যায়। এটি ডিজিটাল বন্দিত্ব ছাড়া কিছুই নয়। তাই নিজস্ব ক্লাউড এবং ডেটা সেন্টার গড়ে তোলাই আমাদের ডিজিটাল স্বাধীনতা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায়।”

বিআইজেএফ সভাপতি হিটলার এ হালিম বলেন, “এ ধরনের কর্মশালা প্রযুক্তি বোঝার সুযোগ সৃষ্টি করে। সাংবাদিকরা এতে আরও সমৃদ্ধ প্রতিবেদন, ফিচার ও বিশ্লেষণ তৈরি করতে পারবে। ভবিষ্যতেও বিআইজেএফ এআইসহ সময়োপযোগী প্রযুক্তি নিয়ে আরও কর্মশালা ও নলেজ শেয়ারিং সেশন আয়োজন করবে।”
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্যে বিআইজেএফের সহসভাপতি ভূঁইয়া ইনাম বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ইতিমধ্যেই ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। চ্যাটজিপিটি, ডিপসিক, ক্লাউড—এসব সম্পর্কে জানতে ও শেখা আমাদের জন্য অপরিহার্য। নইলে সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।”

প্লেক্সাস ক্লাউড লিমিটেডের সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন বিআইজেএফের সাধারণ সম্পাদক সাব্বিন হাসান ও সাবেক সভাপতি নাজনীন নাহার। অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০ জন তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি, ক্লাউড ও ডেটা সেন্টার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
কর্মশালাটি দেশের তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিকদের জন্য শিক্ষণীয় একটি মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে, যেখানে প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যতের নীতি ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।