২৭ আগস্ট ২০২৫| নিজস্ব সংবাদদাতা| একটি বাংলাদেশ অনলাইন
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি থেকে জুন) নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা প্রায় গত বছরের সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রকাশিত এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে নারী ও শিশু নির্যাতনের ২ হাজার ৯৩৭টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়। ২০২৪ সালের পুরো বছরে তা কিছুটা কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৫২৫টিতে। তবে চলতি বছর কেবল ছয় মাসেই ১ হাজার ৫৫৫টি ঘটনা ঘটে, যা বিগত বছরের প্রায় সমপরিমাণ।
সমীক্ষা অনুযায়ী, নির্যাতনের মধ্যে ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, যৌন হয়রানি, বাল্যবিবাহ, যৌতুকের কারণে নির্যাতন, গৃহকর্মী নির্যাতন ও সাইবার অপরাধ অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন মোট ৩৬৪ জন, যার মধ্যে ২২০ জন কন্যাশিশু এবং ১৪৪ জন নারী।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অধিকাংশ ভুক্তভোগীর বয়স ১৮ বছরের নিচে। অন্যদিকে, অভিযুক্তদের মধ্যে বড় একটি অংশের বয়স ১১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। প্রায় ৬২ শতাংশ ঘটনায় মামলা হয়েছে, তবে অনেক মামলাতেই দীর্ঘসূত্রিতা দেখা যায়।

প্রতিবেদনের উপস্থাপক জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সব ঘটনার খবর গণমাধ্যমে আসে না বলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে কার্যকর সুশাসন ও দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা কমানো এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা দরকার।
এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত করছে যে, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা সমাজে এখনো উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে কন্যাশিশুদের সুরক্ষা ও আইন প্রয়োগে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।