জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা, আট শ্রেণির অংশীজনের সঙ্গে সংলাপে যাবে নির্বাচন কমিশন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৫
  • ৭১ বার
জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা, আট শ্রেণির অংশীজনের সঙ্গে সংলাপে যাবে নির্বাচন কমিশন

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে রোডম্যাপ চূড়ান্ত করেছে। কমিশনের অনুমোদনের পর আগামী বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ রোডম্যাপ সর্বসাধারণের সামনে তুলে ধরা হবে। সূত্রমতে, ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে, অর্থাৎ ১৮ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত মোটামুটি ৫৭ দিনের সময় হাতে থাকবে। তবে প্রবাসী ভোটারদের সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য সময়সীমা ১০ দিন বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ২৪টি বিষয়ে মোট ২০৭টি ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ, ভোটার তালিকা প্রণয়ন, নির্বাচনি আইন সংস্কার, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, আসনসীমা চূড়ান্তকরণ, পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক নীতিমালা নির্ধারণ, নির্বাচনি দ্রব্যাদি সংগ্রহ ও প্রস্তুতকরণ, নির্বাচনি বাজেট, ভোটকেন্দ্র স্থাপন, প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ, আইসিটি সাপোর্ট, প্রচারণা কার্যক্রম, ফলাফল প্রদর্শনসহ নানা বিষয়।

ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আট শ্রেণির অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে বলে জানা গেছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হবে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে। ২০০৭ সালের ৩১ অক্টোবর বা তার আগে জন্মগ্রহণকারী সবাই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরুর আগেই ভোটার তালিকার পর্যাপ্ত কপি মুদ্রণ সম্পন্ন করা হবে।

নির্বাচনি আইন-বিধি সংস্কারের কাজ ৩১ আগস্ট আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং এটি ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ চূড়ান্ত করা হবে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। এছাড়া দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের জন্য নীতিমালা প্রস্তুত করা হবে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নভেম্বরের শেষ সপ্তাহেই সম্পন্ন করা হবে।

নির্বাচনি সরঞ্জাম ও মালামাল প্রস্তুত থাকবে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সগুলো পুনরায় পরীক্ষা করে ব্যবহারোপযোগী করা হবে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে প্রথম বৈঠক হবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর। তফসিল ঘোষণার আগেই আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত সব ধরনের সফটওয়্যার ৩১ অক্টোবরের মধ্যে প্রস্তুত রাখা হবে।

রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে তফসিল ঘোষণার পর। প্রতীক বরাদ্দ হওয়ার পর প্রত্যেক আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে একই প্ল্যাটফর্মে প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠের ব্যবস্থা থাকবে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য ব্যালট পেপার পাঠানো হবে আগামী ৫ জানুয়ারি এবং নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে তা দেশে ফেরত আনা হবে।

প্রতীক বরাদ্দ হবে নির্বাচনের ৩০ দিন আগে। বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ভোটাররা প্রতীক বরাদ্দ হওয়ার পরই ভোট দিতে পারবেন। এছাড়া কারাবন্দিদের জন্য ভোটের দুই সপ্তাহ আগে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর ব্যবস্থা থাকবে।

সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। এতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপকে স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য আলাদা আলাদা সময়সীমা ও নির্দেশিকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন দেশের রাজনৈতিক দল, অংশীজন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ নাগরিকদের সহযোগিতা কতটা পাওয়া যায়, তার ওপরই নির্ভর করবে এই রোডম্যাপ বাস্তবায়নের সফলতা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত