কর্ণফুলী টানেলে তিন দিনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ, ট্রাফিক ডাইভারসনের ঘোষণা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৫
  • ৮৯ বার
কর্ণফুলী টানেলে তিন দিনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ, ট্রাফিক ডাইভারসনের ঘোষণা

প্রকাশ: ২৮ অগাস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

চট্টগ্রামের দক্ষিণাংশের যোগাযোগব্যবস্থায় যুগান্তকারী ভূমিকা রাখা কর্ণফুলী নদীর তলদেশের টানেলটি আগামী তিন দিন রাতের বেলায় আংশিকভাবে বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টানেলের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের অংশ হিসেবে ২৮, ২৯ ও ৩০ আগস্ট রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বিশেষ রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এই সময় টানেলের ভেতরের জেট ফ্যান পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ, পাশাপাশি রোড মার্কিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করা হবে।

অধিকতর নিরাপত্তা ও যাত্রীসুবিধা নিশ্চিত করতে টানেলের একটি অংশে ট্রাফিক ডাইভারসন কার্যকর করা হচ্ছে। পতেঙ্গা থেকে আনোয়ারাগামী টিউব সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত হবে আনোয়ারা থেকে পতেঙ্গাগামী টিউবের মাধ্যমে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে যানবাহনের চাপ অনুযায়ী যাত্রীদের উভয়প্রান্তে সর্বনিম্ন পাঁচ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ দশ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কর্ণফুলী টানেল দেশের প্রথম নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত টানেল হওয়ায় এর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অপরিহার্য। বিশেষত টানেলের অভ্যন্তরে ব্যবহৃত জেট ফ্যানগুলো ধোঁয়া ও বায়ুপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলো সঠিকভাবে কার্যকর না থাকলে ভেতরে যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই সময়মতো পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। একইভাবে সড়ক চিহ্নিতকরণ বা রোড মার্কিং ঠিকভাবে দৃশ্যমান রাখা না গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

চট্টগ্রাম নগরী থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারগামী মানুষের যাতায়াতের জন্য টানেলটি এখন প্রতিদিনের অপরিহার্য রুটে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি এই টানেলের মধ্য দিয়ে চলাচল করছে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধা হলেও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে টানেলের নিরাপদ ব্যবহার অনেকাংশে নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

যাত্রীদের উদ্দেশে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আহ্বান জানিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণের দিনগুলোতে ধৈর্য ধারণ করে নির্দেশনা মেনে চলার জন্য। তাদের মতে, এই সাময়িক ডাইভারসন শুধু যানবাহন চালকদের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে টানেলের ব্যবহারকে আরও নিরবচ্ছিন্ন ও কার্যকর করবে।

কর্ণফুলী টানেল চালুর পর থেকে দেশের অর্থনীতি, বন্দরনির্ভর শিল্পায়ন এবং দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন খাতে নতুন গতি এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এ টানেল তার পূর্ণ কার্যকারিতা ধরে রাখতে পারলে এটি আগামী বহু দশক ধরে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত