প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
প্রবীণ আইনজীবী ও গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেনের নাম ব্যবহার করে মঞ্চ ৭১ নামের সংগঠনটি সম্প্রতি একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। ড. কামাল হোসেনের পরিবার জানিয়েছে, তার সঙ্গে কোনও সমন্বয় বা অনুমতি ছাড়া এই সংগঠন তার নাম ব্যবহার করছে, যা জাতির কাছে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। গণফোরামও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, মঞ্চ ৭১-এর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের বা ড. কামাল হোসেনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
মঞ্চ ৭১ হলো হঠাৎ গজিয়ে ওঠা একটি সংগঠন, যা গত ৫ আগস্ট আত্মপ্রকাশ করে। সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম (জেডআই) খান পান্না ও অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষার দাবি তুলে এই সংগঠনটি ঘোষণা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ফুল দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। তবে ড. কামাল হোসেন ওই দিন কোনো অনুষ্ঠানে যাননি এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তিনি গুরুতর অসুস্থ থাকায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সক্ষম ছিলেন না।
এই কর্মসূচি নিয়ে জেডআই খান পান্না সামাজিক মাধ্যমে তিনবার ভিন্ন ভিন্ন দাবি পোস্ট করেন। প্রথমবার তিনি নিজেকে গৃহবন্দি হিসেবে প্রচার করেন। পুলিশ প্রশাসনের মিথ্যা দাবির পর দ্বিতীয়বার দাবি করেন, তাকে পরিবারই ঘরে আটকে রেখেছে। এই ধরনের অসঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্যও জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
২৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘সংবিধান ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান’ শীর্ষক সভার আয়োজন করে মঞ্চ ৭১। অনুষ্ঠানের ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসেবে ড. কামাল হোসেনের নাম উল্লেখ থাকলেও আয়োজক জেডআই খান পান্না নিজেই উপস্থিত ছিলেন না।
গণফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মঞ্চ ৭১-এর এই ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু বিভ্রান্তিকর নয়, বরং ড. কামাল হোসেনের মর্যাদা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সুনামকে হেনস্থা করার চেষ্টা। গণফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সিনিয়র আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক ড. মিজানুর রহমান সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন, ড. কামাল হোসেন বা গণফোরামের সঙ্গে মঞ্চ ৭১-এর কোনো সম্পর্ক নেই এবং অনুমতি ছাড়া তার নাম ব্যবহার করা হয়েছে।
এর আগে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়ে মঞ্চ ৭১-এর পিছনের নেপথ্য চরিত্র হিসেবে জহিরুল ইসলাম ও আবদুল্লাহ আল মাহমুদ দেশ ছেড়ে ভারত গিয়ে আশ্রয় নেন। ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট রাজধানীতে সমাবেশের সময় তারা দেশের প্রধানমন্ত্রীকে অস্ত্র প্রদানের দাবিতে বক্তব্য দেন এবং ১৯৭১ সালের মতো যুদ্ধের প্রয়োজনের কথা তুলে ধরেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষার কথাকে সামনে রেখে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সাম্প্রতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
গণফোরামের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে, ড. কামাল হোসেনের নাম ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং অনুমতি ছাড়া কর্মসূচি ঘোষণা করা ন্যায্য নয়। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও জেডআই খান পান্না ফোন রিসিভ করেননি এবং প্রেরিত ম্যাসেজের জবাবও দেননি।