রাকসুর ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি প্রার্থী তাসিন খান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫৮ বার
রাকসুর ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি প্রার্থী তাসিন খান

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ—রাকসু—দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন এক নারী শিক্ষার্থী। শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাসিন খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শুক্রবার সকালে তার প্রার্থিতার ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাকসুর দীর্ঘ ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।

১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত রাকসুর ১৪টি নির্বাচনে কোনো নারী শিক্ষার্থী ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সাহস দেখাননি। এবার তাসিন খানের পাশাপাশি আরও কয়েকজন ছাত্রী কেন্দ্রীয় সংসদের বিভিন্ন পদে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন, তবে ভিপি পদে তিনি একমাত্র নারী প্রার্থী। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক হিসেবে তাসিন ইতোমধ্যেই পরিচিত একটি নাম। সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় এই তরুণী নিজেকে রাজনীতিসচেতন হিসেবে গড়ে তুললেও দলীয় রাজনীতির বাইরে থেকে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

তাসিন খানের দেওয়া ঘোষণায় উঠে আসে তার ব্যক্তিগত লড়াই ও মানসিক দৃঢ়তার গল্পও। তিনি লেখেন, “আমরা রক্তক্ষয়ী জুলাইয়ের সাক্ষী হয়েছিলাম। তখন নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে নিয়েছিলাম যে হয়তো আর কোনোদিন স্বাভাবিক জীবনে ফেরা হবে না।” ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি নিজেকে ‘বোনাস আয়ুতে বেঁচে থাকা’ বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এখন তার হারানোর ভয় নেই, প্রাপ্তির কোনো লোভও নেই।

তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনের পর তার সামনে বিভিন্ন সংগঠনে যোগ দেওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হননি। বরং দলীয় রাজনীতির প্রতি অনীহা এবং দলান্ধতার বিরোধিতা করে তিনি এগিয়ে চলেছেন। একইসঙ্গে ক্যাম্পাসে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি ঐতিহাসিক সুযোগ বলে উল্লেখ করেছেন।

তবে এই প্রার্থিতা সহজ নয় বলে তিনি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, তার কোনো দলীয় সাপোর্ট, বড় ধরনের ফান্ডিং বা কর্মীবাহিনী নেই। একজন নারী প্রার্থী হিসেবে বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন, প্রশাসনের কাছে বারবার আশঙ্কা জানালেও এখনও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সমস্ত ঝুঁকি মাথায় নিয়েই তিনি নির্বাচনের ময়দানে নামছেন।

নিজের ভিশন তুলে ধরে তাসিন খান বলেছেন, তিনি এমন একটি রাকসু গড়তে চান যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, সাংস্কৃতিক বহুত্বকে মূল্য দেওয়া হবে এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিদিনের চর্চায় প্রতিফলিত হবে। তিনি রাকসুকে আবার সক্রিয় ও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখতে চান।

জয়ের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনী সমীকরণে তিনি খুব বেশি ভাবিত নন। তার মতে, শিক্ষার্থীরা তার কাজ, কার্যক্রম ও ইশতেহার দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন। নির্বাচিত না হলেও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাবেন, তবে নির্বাচিত হলে তা আরও বৃহৎ পরিসরে করতে পারবেন।

নারী প্রার্থী হিসেবে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন—এমন প্রশ্নে তিনি খোলামেলা বলেন, “আমি খুব সাধারণ ব্যাকগ্রাউন্ডের মেয়ে। আমার কোনো সংগঠনের সাপোর্ট নেই, বিশাল ফান্ডিং নেই, কর্মীবাহিনী নেই। অথচ একজন নারী প্রার্থী হওয়ায় আমার বুলিং, হ্যারাসমেন্টসহ অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি।” তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখার পর ভয় তার কাছে তেমন প্রভাব বিস্তার করে না। বরং প্রতিবন্ধকতার সঙ্গেই লড়াই করার জন্য তিনি প্রস্তুত।

রাকসুর আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নতুন করে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাসিন খানের প্রার্থিতা সেই উত্তেজনায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। দীর্ঘ বিরতির পর ছাত্রসংসদের গণতান্ত্রিক চর্চা ফের শুরু হওয়ার এই প্রক্রিয়ায় একজন নারী শিক্ষার্থীর শীর্ষ পদে লড়াই নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত