আদালতের জটিলতায় ৭০০ ব্যান্ড নিলাম স্থগিত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৭০ বার
আদালতের জটিলতায় ৭০০ ব্যান্ড নিলাম স্থগিত

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ‘২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ—৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গ—বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আদালতের জটিলতায় আটকে আছে। গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে উচ্চগতির মোবাইল ব্রডব্যান্ড পৌঁছে দেওয়া, ভবিষ্যতে ফাইভ-জির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং সরকারের রাজস্ব আহরণে বড় ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এই তরঙ্গ এখনো কার্যকরভাবে ব্যবহারের বাইরে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি অনুযায়ী, সরকারের প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি ইতোমধ্যেই হয়েছে।

বিষয়টির সূত্রপাত ২০০৭ সালে, যখন অলওয়েজ অন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ লিমিটেড নামের একটি ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে বিনামূল্যে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের কিছু অংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়। তখন আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) কোনো পরিকল্পনায় এই ব্যান্ড অন্তর্ভুক্ত ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশনের পরিকল্পনার ভিত্তিতে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাস পরেই বিশ্ব রেডিও কমিউনিকেশন কনফারেন্সে এই ব্যান্ডকে মোবাইল যোগাযোগের জন্য নির্ধারণ করা হয় এবং পরবর্তীতে এশিয়া-প্যাসিফিক টেলিকমিউনিটি (এপিটি) এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। সেই পরিকল্পনায় বরাদ্দ দেওয়া স্পেকট্রামের অবস্থান মূল ব্যান্ডের মধ্যে পড়ে যায়, যা পরবর্তীতে মোবাইল অপারেটরদের জন্য জরুরি হয়ে ওঠে।

২০১০ সালে বিটিআরসি অলওয়েজ অন নেটওয়ার্ককে পাঁচ গিগাহার্জ ব্যান্ড ব্যবহার করে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি সেই বিকল্প গ্রহণ করেনি। বরং তারা ২০১৪ সালে বিটিআরসির তরঙ্গ বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে রিট করে। হাইকোর্ট ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বিটিআরসির পদক্ষেপকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। বিটিআরসি এরপর লিভ টু আপিল করে, যা এখনো উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, সমস্যার মূল কারণ হলো প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ সময় ধরে তরঙ্গ ব্যবহার করছে না, তাদের কোনো কার্যকর নেটওয়ার্ক বা গ্রাহকও নেই। এমনকি আইএসপি লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ীও এই ব্যান্ড ব্যবহার করার সুযোগ নেই, কারণ বিশ্ববাজারে এর জন্য কোনো যন্ত্রপাতি নেই। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডকে এখন মূলত ফোর-জি এবং ফাইভ-জি মোবাইল নেটওয়ার্কের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই এটি রাষ্ট্রীয় স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী জানিয়েছেন, তারা ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং দ্রুত শুনানির জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে টেলিযোগাযোগ খাতের সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, দীর্ঘসূত্রিতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবেই বিষয়টি এতদিন ঝুলে আছে।

এখন প্রশ্ন উঠছে, দেশের উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অগ্রযাত্রার জন্য অপরিহার্য এই ব্যান্ড কতদিন আদালতের জটিলতায় আটকে থাকবে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত নিলামের মাধ্যমে এটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে, যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কিন্তু শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতের এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ নিষ্ক্রিয় অবস্থায়ই পড়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত