ইপিজেডে সংঘর্ষে নিহত ১

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪১ বার
ইপিজেডে সংঘর্ষে নিহত ১

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ‘২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেড এলাকায় সোমবার ভয়াবহ উত্তেজনার সৃষ্টি হয় যখন এভারগ্রিন কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষ ঘটে। সকাল থেকে শুরু হওয়া এ অস্থিরতা দুপুর গড়াতেই ব্যাপক রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার প্রেক্ষিতে ক্ষোভ জমে থাকা শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভে নামেন। একপর্যায়ে পুলিশের বাধা পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং সংঘর্ষ শুরু হয়। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

সংঘর্ষে অন্তত একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যদিও নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতাল ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ইপিজেড এলাকার আশপাশে টহল জোরদার করা হয়েছে।

শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন, ন্যায্য পাওনা, বেতন বৃদ্ধি ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নের দাবিতে তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে পুলিশের অতিরিক্ত কড়া অবস্থান পরিস্থিতিকে সংঘর্ষে রূপ দেয়। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, শ্রমিকরা প্রথমে উসকানি দিয়ে পাথর ছোড়া শুরু করেন এবং সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেন, ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা বাধ্য হয়ে কড়া পদক্ষেপ নেন।

উত্তরা ইপিজেড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শ্রমিক অসন্তোষ প্রশমনে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নিহতের ঘটনা শ্রমিকদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে রপ্তানি খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ইপিজেডগুলোর ভাবমূর্তি নষ্ট হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক অসন্তোষ ও বিক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি ও কাজের পরিবেশ নিয়ে বারবার অভিযোগ তুলছেন। নীলফামারীর এই সংঘর্ষ আবারও প্রমাণ করল যে শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় কার্যকর সমাধান ও আলোচনার মাধ্যমে পথ খোঁজা জরুরি হয়ে পড়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত