সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫১ বার

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-১৪ (এসডিজি) অর্জন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণে বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের ওপর জোর দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, সমুদ্র ও মহাসাগর রক্ষায় একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়, বরং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাই পারে টেকসই সামুদ্রিক অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ভিত্তি গড়ে তুলতে।

বুধবার জাপানের টোকিওতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন ভবনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত “ওশেন ডিকেড ফিফথ ফাউন্ডেশনস ডায়ালগ হাই-লেভেল রাউন্ডটেবল উইথ অ্যাম্বাসেডরস, এক্সপার্টস অ্যান্ড প্র্যাকটিশনার্স” শীর্ষক সভায় ঢাকার বাসভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এ আহ্বান জানান তিনি। অধিবেশনে মূল আলোচ্য ছিল “ড্রাইভিং ওশেন লিডারশিপ অ্যান্ড ইনোভেশন: অ্যাডভান্সিং গভার্নেন্স, ব্লু ইকোনমি, অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স টু অ্যাচিভ থার্টি বাই থার্টি।”

রিজওয়ানা হাসান বলেন, প্লাস্টিক দূষণ এখন বিশ্বের জন্য এক ভয়াবহ হুমকি। বাংলাদেশ বৈশ্বিকভাবে প্লাস্টিক দূষণে নবম স্থানে অবস্থান করছে, অথচ এ দূষণের বড় অংশই আসে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে। তাই চলমান বৈশ্বিক চুক্তিতে ভৌগোলিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য বিশেষ বিধান রাখা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাহাজভাঙা শিল্প বাংলাদেশের উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে বিদ্যমান হংকং কনভেনশনকে তিনি “অপর্যাপ্ত” বলে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের অর্থনীতি, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও উন্নয়নে বিশাল ভূমিকা রাখছে। সরকার ইতোমধ্যে “অ্যাসেসমেন্ট অব কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন বায়োডাইভার্সিটি রিসোর্সেস অ্যান্ড ইকোসিস্টেম” প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, যার মাধ্যমে জাতীয় ডাটাবেজ, সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা এবং পর্যবেক্ষণ প্রটোকল তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও এর প্রভাব নিয়ে গবেষণাও সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের অনন্য সম্পদ তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রিজওয়ানা হাসান বাংলাদেশের সামুদ্রিক মাছের বিপুল সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। তার মতে, আমাদের সামুদ্রিক মাছের সম্পদ এখনো যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয়নি। আন্তর্জাতিক অংশীদাররা চাইলে টেকসই সীফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারে, যা জাতীয় অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভয়াবহ পরিণতির কথা উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, যদি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয় তবে বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ ভূমি পানির নিচে তলিয়ে যাবে। এতে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে এবং একই পরিণতি ভোগ করবে বিশ্বের ৫২টি ছোট দ্বীপরাষ্ট্র। তাই তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্র সংরক্ষণে বৈশ্বিক সংহতি আর বিলম্ব না করে অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে।

আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট আতসুশি সুনামি, জাপানে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিন ব্লুম, ইউনেস্কো-আইওসি’র চেয়ার অধ্যাপক ইউতাকা মিচিদা প্রমুখ। সভায় বিশেষজ্ঞরা একমত হন যে, “থার্টি বাই থার্টি” লক্ষ্য অর্জনে অর্থাৎ ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৩০ শতাংশ সামুদ্রিক এলাকা সংরক্ষণের উদ্যোগ সফল করতে হলে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা অপরিহার্য।

সভায় বাংলাদেশ উপদেষ্টার আহ্বানকে অংশগ্রহণকারীরা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন। তারা মনে করেন, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত