ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মামলা তদন্ত – নতুন দিগন্ত উন্মোচন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৩৫ বার
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মামলা তদন্ত - নতুন দিগন্ত উন্মোচন

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা। একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সিলেটের মানব পাচার ট্রাইব্যুনালে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে দায়েরকৃত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অসুস্থ থাকায় আদালতে হাজির হতে না পারায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তার সাক্ষ্য গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত। সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ‘তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০ (আইন নং ১১)’ এর ধারা ৫ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির নির্দেশিত ‘প্র্যাকটিস নির্দেশনা’ অনুসারে এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে অবসরে থাকা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হারুন মজুমদার অসুস্থ থাকায় আদালতে হাজির হতে পারেননি। আদালতের অনুমতিসাপেক্ষে তিনি ঢাকার ডেমরা থানায় উপস্থিত হয়ে থানার অফিসার ইনচার্জের মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সে সিলেটে মানব পাচার ট্রাইব্যুনালে যুক্ত হন। রাষ্ট্রপক্ষে পিপি এডভোকেট গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং আদালতের বিচারক সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

সাক্ষ্যগ্রহণকালে উপস্থিত ছিলেন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের প্যানেল আইনজীবী ফকরুল ইসলাম। আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল খালিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সাক্ষীকে জেরা করেন। সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করেন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের প্রতিনিধি চয়ন দাস।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এটি সিলেটের আদালতের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যেখানে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়েছে। এ ধরণের পদক্ষেপ বিচার ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মামলার পটভূমি অনুযায়ী, ২০১২ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সিলেটের শাহপরান থানায় মামলা দায়ের করেন তৎকালীন এসআই মো. আব্দুল মোতালেব। মামলায় ছয়জনকে আসামি করা হয়েছিল। তারা হলেন- মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা থানার মুড়াউল গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে কামরুল ইসলাম, বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানার আফালকাটি গ্রামের মৃত বজলু সিকদারের ছেলে মামুন সিকদার ও তার স্ত্রী রিনা বেগম, বগুড়া জেলার ছোট এলাংগী গ্রামের মৃত রুস্তম আলীর মেয়ে কুহিনুর বেগম এবং সুনামগঞ্জের ছাতক থানার বাগবাড়ি গ্রামের আলতাফ আলীর ছেলে সেলিম মিয়ার স্ত্রী রুনা বেগম। এদের মধ্যে কামরুল, মামুন ও রিনা ওই সময় সিলেট নগরীর ইসলামপুর এলাকায় এবং কুহিনুর শিবগঞ্জ এলাকায় বসবাস করতেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১২ সালের ২৪ আগস্ট রাতে দায়িত্ব পালন করছিলেন এসআই মো. আব্দুল মোতালেবসহ পুলিশের একটি টিম। সূত্রের মাধ্যমে খবর পেয়ে তারা আসামিদের ভাড়া বাসা থেকে তিন নারী ও এক শিশুকে উদ্ধার করেন। এসব নারীকে আসামিরা আটকে রেখে পতিতাবৃত্তি করাচ্ছিলেন।

২০১২ সালের ১৫ অক্টোবর মামলার চার্জশিট দাখিল করেন তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হারুন মজুমদার। চার্জশিটে দুই আসামিকে বাদ দেওয়া হয় এবং উপরোক্ত চারজনকে আসামি করা হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর মামলাটি মানব পাচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়। বর্তমানে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ কার্যক্রম চলছে এবং এই নতুন পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রমের গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত