গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে টেকসই সংস্কারের দাবি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২২ বার
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে টেকসই সংস্কারের দাবি

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে টেকসই সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই)-এর চেয়ারম্যান ফ্রাঁসোয়া ভ্যালেরিয়ান। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এক ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের বাইরে এনে প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের শুধু গ্রেপ্তার নয়, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও সঠিক বিচার কার্যকর করতে হবে।

ফ্রাঁসোয়া ভ্যালেরিয়ান আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উপদেষ্টার বিরুদ্ধে যে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো এখন তদন্তাধীন। এ নিয়ে আগে থেকে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে তদন্ত প্রক্রিয়াটি অবশ্যই স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে গণআন্দোলনের পর যে মব ভায়োলেন্স বা জনতার সহিংসতা দেখা যাচ্ছে, যেখানে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষও আক্রান্ত হচ্ছেন, তা গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াতে পারে। গণতান্ত্রিক সমাজে সহিংসতার জায়গা নেই এবং সঠিক আইনের শাসনই কেবল এ ধরনের অস্থিরতা রোধ করতে পারে।

অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে ব্যাংকিং খাতে কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে অর্থ পাচারের প্রবণতা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, অর্থ পাচার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিশ্বব্যাপী যে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়, তার মাত্র এক শতাংশ অর্থ ফেরত আসে, যা দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) আরও কার্যকর করার জন্য সংস্কার কমিশন ইতিমধ্যেই সহযোগিতা শুরু করেছে। এর মাধ্যমে দুর্নীতি দমন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি মনে করেন, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের পাশাপাশি প্রশাসনিক কাঠামোয় সংস্কার ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন মোড় সৃষ্টি করেছে। তবে এই পরিবর্তন স্থায়ী ও কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর। টিআই-এর সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে যে সতর্ক বার্তা দেওয়া হলো, তা কেবল দুর্নীতি প্রতিরোধ নয়, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত