মারাকানায় চিলিকে উড়িয়ে ব্রাজিলের দুর্দান্ত জয়, বিশ্বকাপের আগে উৎসবমুখর সেলেসাও

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৬ বার
মারাকানায় চিলিকে উড়িয়ে ব্রাজিলের দুর্দান্ত জয়, বিশ্বকাপের আগে উৎসবমুখর সেলেসাও

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ‘২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ফুটবল মানেই ব্রাজিল, আর ব্রাজিল মানেই উৎসব। সেই উৎসবের মঞ্চ এবার আবারও ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়াম। কিংবদন্তি কোচ কার্লো আনচেলত্তির ইচ্ছায় বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে শেষ প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে সেলেসাওরা মুখোমুখি হয়েছিল চিলির। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই ম্যাচে ব্রাজিল দাপুটে ফুটবলে দর্শকদের উপহার দিল স্মরণীয় এক জয়। তরুণ প্রতিভা এস্তেভাও উইলিয়ান, অভিজ্ঞ লুকাস পাকেতা এবং মিডফিল্ডার ব্রুনো গুইমারেসের গোলে লাতিন আমেরিকার এই পরাশক্তি প্রতিপক্ষকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার আগে নিজেদের শক্তি আবারও প্রমাণ করল।

ইতিহাসের পাতায় আগেই লেখা ছিল চিলির বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি জয়ের রেকর্ড ব্রাজিলের দখলে। এবার সেই রেকর্ডে যোগ হলো আরেকটি নতুন অধ্যায়। ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ আগ্রাসী ফুটবল খেলতে থাকে আনচেলত্তির শিষ্যরা। ৬৪ শতাংশ বল দখলে রেখে তারা চিলির রক্ষণভাগকে কার্যত বিপর্যস্ত করে তোলে। ম্যাচে ব্রাজিল নেয় ২২টি শট, যার মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে চিলি পুরো ম্যাচে মাত্র ৩টি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।

প্রথম দিকে আক্রমণ করেও গোলের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা। পঞ্চম মিনিটে ক্যাসেমিরোর হেডে পাওয়া গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। তবে ৩৭ মিনিটে এসে মারাকানা গর্জে ওঠে এক নতুন প্রতিভার কল্যাণে। জোয়াও পেদ্রো ও সান্তোসের সমন্বয়ে তৈরি আক্রমণ থেকে রাফিনিয়ার শট ঠেকালেও ফিরতি বলে অসাধারণ এক শটে বল জালে জড়ান এস্তেভাও উইলিয়ান। মাত্র ১৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড কিংবদন্তি পেলের পর সর্বকনিষ্ঠ ব্রাজিলিয়ান হিসেবে গোল করার রেকর্ড গড়েন।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে চিলি খেলোয়াড় মারিপান ওয়েসলিকে বেপরোয়া ট্যাকল করলে লাল কার্ড দেখানো হয়। যদিও ভিএআরের পর সেটি বদলে দেওয়া হয় হলুদ কার্ডে, তবে সেই মুহূর্ত চিলির জন্য ছিল সতর্ক সংকেত। বিরতির পর আনচেলত্তি একাধিক পরিবর্তন আনেন এবং বদলি হিসেবে নামা লুইস হেনরিক ও কাইও জর্জ মাঠে নেমেই খেলার গতি বাড়িয়ে দেন।

গোলশূন্যতায় ভোগা পাকেতা এই ম্যাচে ফিরে পেলেন জাতীয় দলের জার্সি, আর সেটি স্মরণীয় করে রাখলেন অসাধারণ এক হেডে। ৬২ মিনিটে হেনরিক দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ের পর বল বাড়ান, আর পাকেতা মাথা ছুঁইয়ে জালের ঠিকানা খুঁজে পান। গোটা মারাকানা তখন উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে।

এর মাত্র কয়েক মিনিট পরেই আবারও গোলের দেখা পায় স্বাগতিক ব্রাজিল। হেনরিকের শট উপরের বারে লেগে ফিরে আসলে তা নিখুঁতভাবে পা ছুঁইয়ে জালে পাঠান ব্রুনো গুইমারেস। স্কোরলাইন তখন ৩-০, আর ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের গান আর নাচে পুরো মারাকানা রূপ নেয় উৎসবের নগরীতে।

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চিলি চেষ্টা চালালেও কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। অন্যদিকে ব্রাজিল গোলের জন্য আক্রমণ চালালেও আর ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। তবে তাতে তাদের জয়-উল্লাসে কোনো ঘাটতি ছিল না। আনচেলত্তির অধীনে গড়ে ওঠা এই ব্রাজিল দল একদিকে যেমন তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে ভরপুর, তেমনি অভিজ্ঞদের দৃঢ়তায়ও সমৃদ্ধ।

বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই জয় ব্রাজিলিয়ান শিবিরে নতুন আত্মবিশ্বাস যোগ করেছে। ফুটবলবিশ্বও এখন অপেক্ষায়—মারাকানার এই দাপট বিশ্বকাপের আসরে কীভাবে ফুটে ওঠে তা দেখার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত