প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ‘২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
মারাকানার উচ্ছ্বাস যেন ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের এক অনিবার্য অধ্যায়। চিলির বিপক্ষে শেষ বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচে আবারও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হলো। প্রায় ৫৭ হাজার দর্শকের সামনে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তি ব্রাজিল ৩-০ গোলে জয় তুলে নিল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। মাঠে গোলের উৎসব করলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি, যিনি ম্যাচ শেষে গোলদাতাদের প্রশংসার পাশাপাশি আলোকপাত করলেন দলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের ওপর। বিশেষ করে বদলি হিসেবে নেমে ঝলক দেখানো লুইজ হেনরিক প্রশংসা কুড়ালেন কিংবদন্তি এই ইতালিয়ান কোচের কাছ থেকে।
পুরো ম্যাচজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করেছে স্বাগতিক ব্রাজিল। ৬৪ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে তারা চিলিকে চাপে রাখে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। গোলের খাতা খোলেন কিশোর প্রতিভা এস্তেভাও উইলিয়ান, যিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে কিংবদন্তি পেলের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেললেন সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবে। এরপর লুকাস পাকেতা এবং ব্রুনো গুইমারেসের গোলে ব্যবধান বাড়ায় সেলেসাও। তবে প্রতিটি গোলেই কোনো না কোনোভাবে জড়িয়ে ছিলেন হেনরিক। দ্বিতীয় গোলে সরাসরি অ্যাসিস্ট এবং তৃতীয় গোলে তার জোরালো শট থেকে বল ফিরে গিয়েছিল, যা পরবর্তীতে গুইমারেস জালে পাঠান।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আনচেলত্তি হেনরিকের পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “লুইজ হেনরিক অসাধারণ প্রতিভাবান। শারীরিকভাবে শক্তিশালী, এক বনাম একের লড়াইয়ে দুর্দান্ত। তার ফিটনেস ও গতি ম্যাচের ধারা বদলে দেয়। যখন অন্যরা ক্লান্ত, তখন এমন প্রতিভাবান ফুটবলার মাঠে নামলে খেলা পাল্টে যায়। জাতীয় দলে এ ধরনের খেলোয়াড় থাকা বিশাল সুবিধা।”
শুধু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নয়, দলের সার্বিক খেলার মান নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন ব্রাজিল কোচ। তার ভাষায়, “মারাকানার পরিবেশ ছিল দুর্দান্ত। আমরা শুরু থেকেই গতি নিয়ে খেলেছি, কার্যকর প্রেসিং দিয়েছি এবং রক্ষণে মনোযোগী ছিলাম। প্রথম গোল করার পর খেলা আমাদের জন্য সহজ হয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে চিলি কিছুটা আক্রমণাত্মক হলেও দ্বিতীয় গোলের পর ম্যাচ পুরোপুরি আমাদের দখলে চলে আসে।”
ম্যাচ পরবর্তী আলোচনায় সাংবাদিকদের স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ছিল আসন্ন বিশ্বকাপ নিয়ে। কোন খেলোয়াড়রা নিশ্চিতভাবে থাকছেন, তা জানতে চাইলে আনচেলত্তি জানান, এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়। তার ভাষায়, “আমাদের দলে শক্তিশালী কিছু খেলোয়াড় আছেন, তবে ২৫ বা ২৬ জনের তালিকা করা সহজ কাজ নয়। আগামী কয়েক মাসে হয়তো অন্য যে কোনো কোচের চেয়ে আমার বেশি কষ্ট হবে সঠিক বাছাই করতে। তবে এটি ইতিবাচক দিকও বটে, কারণ দলে প্রচুর প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। আজ যারা শুরু থেকে খেলেছে কিংবা যারা নেমে ম্যাচের রিদম বদলেছে, সবাই আমাকে খুশি করেছে।”
গত মে মাসে রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব ছেড়ে ব্রাজিল জাতীয় দলের হাল ধরেন কার্লো আনচেলত্তি। এরপর থেকে দেশের ঘরোয়া লিগ থেকে শুরু করে ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোয় খেলা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের পারফরম্যান্স গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছেন তিনি। নেইমার, ভিনিসিয়ুস কিংবা রদ্রিগোর মতো প্রতিষ্ঠিত তারকাদের পাশাপাশি নতুন মুখদেরও তিনি সুযোগ দিয়ে যাচ্ছেন, যা দলকে দিয়েছে নতুন মাত্রা।
এখন পর্যন্ত তার অধীনে তিনটি ম্যাচ খেলেছে ব্রাজিল, যেখানে দুটি জয় এবং একটি ড্র এসেছে। সবশেষ মারাকানার এই জয় শুধু সংখ্যার হিসেবে নয়, মানসিকভাবেও বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকল সেলেসাওদের জন্য। সামনে বিশ্বকাপের মহাযুদ্ধ, আর ব্রাজিলিয়ান ফুটবলপ্রেমীরা এখন আরও বেশি আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছেন—আনচেলত্তির তত্ত্বাবধানে হয়তো আবারও বিশ্ব মঞ্চে ফিরবে সোনালি যুগের স্বাদ।