প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
টেনিস বিশ্ব অপেক্ষায় ছিল এক মহারণের। কোর্টের দুই প্রভাবশালী তরুণ তারকা, বিশ্ব র্যাংকিংয়ের এক ও দুই নম্বর খেলোয়াড়—ইতালির ইয়াসিক সিনার ও স্পেনের কার্লোস আলকারাজ মুখোমুখি হয়েছিলেন ইউএস ওপেন ফাইনালে। নিউ ইয়র্কের ঐতিহাসিক আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে রোববার রাতে অনুষ্ঠিত এই লড়াই উপহার দিল দর্শকদের এক রোমাঞ্চকর চার সেটের যুদ্ধ। শেষ পর্যন্ত ৬-২, ৩-৬, ৬-১, ৬-৪ গেমে জয় তুলে নিয়ে আবারও শিরোপা জয়ের পাশাপাশি টেনিসের এক নম্বর আসনে ফিরলেন ২২ বছর বয়সী আলকারাজ।
ফাইনালের আকর্ষণ কেবল কোর্টের খেলাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। গ্যালারিতেও ছিল তারকাদের মিলনমেলা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে শুরু করে রকস্টার ব্রুস স্প্রিংস্টিন, ফ্যাশন জগতের আইকন টমি হিলফিগার, হলিউড অভিনেতা মাইকেল ডগলাস ও এনবিএ সুপারস্টার স্টিফেন কারি পর্যন্ত ছিলেন এই মহারণের প্রত্যক্ষদর্শী। তাদের উপস্থিতি ম্যাচকে আরও রঙিন করে তোলে।
ম্যাচের শুরুতেই নিজের দাপট জানান দেন আলকারাজ। প্রথম সেটে তিনি প্রায় নিখুঁত খেলা উপহার দেন। মাত্র দুটি আনফোর্সড এররের বিপরীতে মারেন ১৩টি শট উইনারে রূপান্তরিত হয়। শুরুতেই সিনারের সার্ভিস ভেঙে দেন এবং পুরো সেট নিয়ন্ত্রণে রেখে ৬-২ গেমে জয় ছিনিয়ে নেন। তবে সিনার দ্বিতীয় সেটে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৬-৩ ব্যবধানে জিতে ম্যাচে সমতা ফেরান।
কিন্তু তৃতীয় সেটে আবারও ম্যাচের লাগাম হাতে নেন আলকারাজ। ধারাবাহিক ব্রেক পয়েন্ট, শক্তিশালী ফোরহ্যান্ড ও নিখুঁত ভলিতে প্রতিপক্ষকে পেরে ওঠার সুযোগই দেননি তিনি। সিনারের ফোরহ্যান্ড ব্যর্থতার পাশাপাশি একাধিক ডাবল ফল্টের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৬-১ ব্যবধানে সেটটি নিজের করে নেন স্প্যানিশ তরুণ।
চতুর্থ সেটে সিনার লড়াই চালিয়ে যান এবং দুইবার চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট বাঁচিয়ে ম্যাচকে রোমাঞ্চকর করে তোলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আলকারাজের দৃঢ়তা ও আক্রমণাত্মক খেলার কাছে টিকতে পারেননি তিনি। ৬-৪ গেমে জয় নিশ্চিত করে আলকারাজ যখন গলফ ক্লাবের ভঙ্গিতে বলকে গ্যালারিতে পাঠান, তখন সেটি ছিল কেবল উদযাপন নয়, বরং নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীকী প্রকাশ।
এই জয়ের মাধ্যমে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের পর প্রথমবারের মতো বিশ্ব র্যাংকিংয়ের এক নম্বরে ফিরলেন আলকারাজ। এর আগে টানা ৬৫ সপ্তাহ ধরে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিলেন সিনার। মাত্র ২২ বছর বয়সেই আলকারাজ এখন ছয়টি গ্র্যান্ড স্লামের মালিক। বিয়র্ন বোর্গের পর দ্বিতীয় কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে এই কীর্তি অর্জন করলেন তিনি। উন্মুক্ত যুগে তিন ধরনের কোর্টে একাধিক গ্র্যান্ড স্লাম জেতার বিরল কীর্তি গড়েছেন তিনি, যেখানে আগেই স্থান ছিল মাত্র চারজন কিংবদন্তির।
আলকারাজের শোকেসে এর আগে দুটি ফ্রেঞ্চ ওপেন, দুটি উইম্বলডন ও একটি ইউএস ওপেন শিরোপা ছিল। এবারের অর্জন সেই তালিকাকে আরও সমৃদ্ধ করল। বিশ্ব টেনিসের ভবিষ্যৎ দিকচিত্রে তিনিই এখন সবচেয়ে উজ্জ্বল আলো—যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী সিনারকেও পিছনে ফেলে নতুন করে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করলেন স্প্যানিশ এই তরুণ।
আপনি চাইলে আমি কি এই প্রতিবেদনটিতে সিনার ও আলকারাজের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং দুই তরুণ তারকার মধ্যে নতুন টেনিস প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে বিশ্লেষণ যুক্ত করে আরও বড় করতে পারি?