দেশের দুর্যোগের বড় অংশ মানবসৃষ্ট: অর্থ উপদেষ্টা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫৩ বার
দেশের দুর্যোগের বড় অংশ মানবসৃষ্ট: অর্থ উপদেষ্টা

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ দেশের দুর্যোগ মোকাবেলায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তার মতে, দেশের মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানুষের তৈরি দুর্যোগও কম নয়, এবং দুটোই সমাধান করার জন্য কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশের জন্য ৩০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন।

সোমবার রাজধানীতে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) যৌথ উদ্যোগে তিনদিনব্যাপী ‘নেভিগেটিং ক্লাইমেট ফাইন্যান্স: মিডিয়া রিপোর্টিং’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “জলবায়ু নিয়ে আমরা যত কথা বলি, তার চেয়ে কাজ অনেক কম। কিছু দেশ এই ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয়ই করে না। যদি সঠিকভাবে মোকাবেলা না করি, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দায়বোধ থাকবেই। পটুয়াখালী, পাথরঘাটার মতো অঞ্চল এখনো যথাযথ মনোযোগ পাচ্ছে না।”

ড. আহমেদ আরও উল্লেখ করেন, জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় শুধু সরকারের উদ্যোগ নয়, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নীতি নির্ধারণকারী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, অর্থায়ন সংস্থা এবং সর্বোপরি জনগণের সমন্বিত অংশগ্রহণ জরুরি। তিনি বলেন, “পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ যদি এক না হয়, তবে জলবায়ু সংকটকে কার্যকরভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না। জনগণকে আগে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা এই মুহূর্তে ৩০ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন, অথচ আইএমএফ থেকে এক বিলিয়ন ডলার আনা কষ্টসাধ্য।”

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়ছে। তিনি বলেন, “সিলেটের পানি বৃদ্ধি, মাতৃমৃত্যু এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক প্রভাবিত ঘটনা এমন কিছু নেই, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন কার্যকরভাবে উপস্থিত নেই। এই গল্প জানাতে না পারলে আমরা আন্তর্জাতিক সহায়তা পেতে পারছি না।”

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুধু বস্তুধ্বংসের কারণ নয়, এটি জনগণের জীবনেও মারাত্মক প্রভাব ফেলে। উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে অর্থায়ন পেতে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি সাংবাদিকদের দায়িত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “তথ্য ও উপাত্তের মাধ্যমে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশ নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং আমরা বৈশ্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সক্ষম হব।”

পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান বলেন, এই শতাব্দীর সবচেয়ে বিপজ্জনক বিপদ হলো জলবায়ু পরিবর্তন। তিনি সাংবাদিকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, সচেতনতা ও অ‍্যাওয়ারনেস তৈরি করতে হলে মিডিয়ার সহায়তা অপরিহার্য। তিনি বিশ্বব্যাপী অ্যাক্টিভিজমের ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন, সাংবাদিকরাই জনগণকে সচেতন করতে সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের কথায় উঠে আসে, দেশে দুর্যোগ মোকাবেলায় শুধু প্রাকৃতিক কারণ নয়, মানবসৃষ্ট প্রভাবও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও অর্থায়ন পেতে কার্যকর তথ্য সরবরাহ, জনগণের অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সচেতনতা অপরিহার্য। বাংলাদেশকে জলবায়ু-সহনশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এখন সময়মতো সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত