প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালীন সিনেট ভবন কেন্দ্রে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি ৬০-৬৫ শতাংশ হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার গোলাম রাব্বানী।
দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর পর এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর পুনরায় অনুষ্ঠিত হওয়া এই নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি কেন্দ্রের ৮১০টি বুথে ভোট গ্রহণ চলছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা গেছে উৎসাহ ও উদ্দীপনা, যেখানে ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
এই নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন। এর মধ্যে পাঁচ ছাত্রী হলে ১৮ হাজার ৯৫৯ ভোট এবং ১৩ ছাত্র হলে ২০ হাজার ৯১৫ ভোট। ডাকসুতে ২৮টি পদের জন্য ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতি হল সংসদে ১৩টি করে ১৮টি হলে মোট ২৩৪টি পদে ১ হাজার ৩৫ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। অর্থাৎ প্রতিটি ভোটারকে ৪১টি ভোট দিতে হবে।
এবারের নির্বাচনে অন্তত ১০টি প্যানেল অংশ নিচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস), সাতটি বাম ছাত্র সংগঠন ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’, ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’, ছাত্রশিবির, ‘অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪’, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন প্যানেল।
ভিপি পদে আবিদুল ইসলাম খান, জিএস পদে শেখ তানভীর বারী হামিম এবং এজিএস পদে তানভীর আল হাদী মায়েদ আওয়ামী সমর্থিত ‘আবিদ-হামীম-মায়েদ পরিষদ’-এর আলোচনায়। ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’-এর মধ্যে ভিপি পদে আবু সাদিক কায়েম, জিএস পদে এসএম ফরহাদ এবং এজিএস পদে মুহা. মহিউদ্দিন খান লড়ছেন।
গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেল থেকে ভিপি পদে আবদুল কাদের, জিএস পদে আবু বাকের মজুমদার। সাতটি বাম ছাত্র সংগঠন ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ থেকে ভিপি পদে শেখ তাসনীম আফরোজ ইমি এবং জিএস পদে মেঘমল্লার বসু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেল গঠিত করেছেন উমামা ফাতেমা, যেখানে জিএস পদে আল সাদী ভূঁইয়া এবং এজিএস পদে জাহেদ আহমদ লড়ছেন। ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকে ভিপি পদে বিন ইয়ামিন মোল্লা, জিএস পদে সাবিনা ইয়াসমিন এবং এজিএস পদে রাকিবুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
গোলাম রাব্বানী জানিয়েছেন, সকাল থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক এবং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভোটের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, বিশেষ করে নারী ভোটারদের সক্রিয় উপস্থিতি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশের পরিচায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।