প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন ঘিরে ভোটগ্রহণ ও গণনার পরিবেশে যখন উত্তেজনা বিরাজ করছে, তখন নতুন করে রাজনৈতিক রেশ দেখা দিয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলোর পরস্পরবিরোধী অবস্থানে। মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে মুক্তি ও গণতান্ত্রিক তোরণ মঞ্চের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল শেষ মুহূর্তে ভোট দিতে এসে সংঘবদ্ধভাবে “মব ক্রিয়েট” করতে পারে। তার দাবি, বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে যে ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক সমর্থক এখনও ভোট দিতে আসেনি, আর তারা যদি একসঙ্গে কেন্দ্রে প্রবেশ করে তাহলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “জুলাই বিপ্লবসহ বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূতিকাগার হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ডাকসু নির্বাচনে যদি কেউ প্রকৌশলীর মতো করে ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করে, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরাই তার কড়া জবাব দেবে।” তিনি দাবি করেন, এ পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও কিছু অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। টিএসসি ভোটকেন্দ্রে এক শিক্ষার্থী বাইরে থেকে পূরণ করা ব্যালট নিয়ে এসে রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, ব্যালটে প্রার্থী সাদিকের নামের পাশে পূর্বেই ক্রস চিহ্ন দেওয়া ছিল। এ প্রসঙ্গে শিবিরের সেক্রেটারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন। সকাল ৮টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি কেন্দ্রে ৮১০টি বুথে ভোটগ্রহণ চলে, যেখানে শিক্ষার্থীরা ডাকসুর ২৮টি পদ এবং প্রতিটি হল সংসদের ১৩টি পদে ভোট দেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন মোট ১৫০০ এর বেশি প্রার্থী। দিনভর ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও বিকেলের দিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং প্রতিটি প্রবেশপথে পুলিশ, র্যাব ও এপিবিএন সদস্যদের উপস্থিতি বাড়ানো হয়। এর মধ্যেই বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা সংবাদ সম্মেলন ও অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে শুরু করেন, যা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ভোট গণনার এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর এ ধরনের পরস্পরবিরোধী মন্তব্য এবং অভিযোগ-প্রতিবাদ উত্তেজনাকে আরও উসকে দিতে পারে। ডাকসু নির্বাচনের ফলাফল যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণ করবে, তেমনি জাতীয় রাজনীতিতেও এর প্রতিফলন ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই শেষ মুহূর্তের অভিযোগ-প্রত্যাশা ও প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠনগুলোর অবস্থান ফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত পরিস্থিতিকে অনিশ্চয়তার দিকেই ঠেলে দিচ্ছে।









