প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশে বিশ্ববিখ্যাত নামিদামি ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহারকারীদের খোঁজে নেমেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আয়কর রিটার্নে গাড়ির তথ্য গোপন রাখা বা রিটার্ন জমা না দেওয়ার মাধ্যমে কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে এই অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এ পর্যন্ত ১৭৪৮টি বিলাসবহুল গাড়ির মালিকের তথ্য সংগ্রহ করেছে, যাদের মধ্যে ১ হাজার ৩৩৯ জন তাদের গাড়ির তথ্য আয়কর নথিতে গোপন রেখেছেন এবং ৪০৯ জন মালিক সম্পূর্ণ রিটার্নই জমা দেননি।
এই গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে ল্যাম্বরগিনি, বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ, রোলস রয়েস, ল্যান্ড রোভার, অডি, রেঞ্জরোভার, পোরশে, জাগুয়ার, বেন্টলি, ক্যাডিলাক, মাসেরাতি, টেসলা, ফেরারি, টয়োটা, জিপের মতো নামি ব্র্যান্ড। এনবিআরের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এসব গাড়ির প্রতিটির দাম করসহ ১ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অধিকাংশ গাড়ির মালিক বিগত সময়ে ক্ষমতাবান রাজনীতিবিদ বা ব্যবসায়ী হওয়ায় ক্রয়ে ব্যবহৃত অর্থের উৎস নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।
সিআইসি সূত্র জানায়, ৫ হাজার ৪৮৯টি বিলাসবহুল গাড়ির মধ্যে ৫ হাজার ২৮৮টির তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৭১৯ জন মালিক তাদের রিটার্নে গাড়ির তথ্য প্রদর্শন করেছেন। ৪৪২টি গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে এবং ১৪৮ জন মালিক চলতি করবর্ষে রিটার্ন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি আয়কর আইনের ৬৭ (১২) ধারা অনুযায়ী ৪৩টি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাও যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের কাছে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সিআইসির মহাপরিচালক আহসান হাবিব নিশ্চিত করেছেন, বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের আয় ও ট্যাক্স সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ট্যাক্স অফিসগুলোকে ট্যাক্স নোটিস সার্ভ করার জন্য জানানো হয়েছে। সাধারণত এই ধরনের গাড়ির উপর আমদানি শুল্ক ও কর সর্বাধিক ৮০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। নিবন্ধনের সময়ও অগ্রিম কর পরিশোধ বাধ্যতামূলক।
এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, যে অর্থ দিয়ে গাড়ি ক্রয় করা হয়েছে তা আয়ের হিসাব দেখালে সংশ্লিষ্ট আয়কর আইনের আওতায় আসবে। বাংলাদেশে সর্বোচ্চ করের হার ৩০ শতাংশ হওয়ায় ৫ কোটি টাকার গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কর দাঁড়াবে প্রায় দেড় কোটি টাকা। এছাড়া প্রতি বছরের জন্য ১০ শতাংশ জরিমানা যুক্ত হবে। অর্থাৎ যদি কেউ পাঁচ বছর ধরে গাড়ি রিটার্নে দেখাতে ব্যর্থ হন, তাহলে মূল করের পাশাপাশি আরও অন্তত ৫০ শতাংশ জরিমানা দিতে হবে।
এ অভিযান দেশের উচ্চ মূল্যের সম্পদ ও কর ফাঁকির বিরুদ্ধে এনবিআরের কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।