প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পক্ষপাতহীন ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের দাবিকে কেন্দ্র করে আজ বুধবার নতুন কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ), সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (বাসদ) এবং পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি আগামী কয়েক দিন ধরে চলবে এবং এতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাবে বলে আয়োজক সংগঠনগুলোর প্রত্যাশা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণস্বাক্ষর কর্মসূচির মাধ্যমে সাত দফা দাবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে উত্থাপন করা হবে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—চাকসু নির্বাচনে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, ক্যাম্পাসে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার মূল হোতাদের গ্রেপ্তার ও মামলায় নাম সংযোজন, আহত শিক্ষার্থীদের পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ, আবাসন সমস্যা সমাধানের জন্য সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, আবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ভাতা প্রদান, বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের চবি শাখার সাধারণ সম্পাদক ইফাজ উদ্দিন আহমদ, দপ্তর সম্পাদক শেখ জুনায়েদ কবির, সদস্য ট্যালেন্ট চাকমা ও বিসন চাকমা উপস্থিত ছিলেন। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের পক্ষ থেকে অংশ নেন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আছাদ বিন রহমান। পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি অন্বেষ চাকমা ও সেক্রেটারি সুমন চাকমা।
কর্মসূচির উদ্বোধনী বক্তব্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আছাদ বিন রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের সক্রিয় সম্মতি নিয়ে এই সাত দফা দাবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্রদের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে এই দাবিগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়ন জরুরি।
চবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইফাজ উদ্দিন আহমদ জানান, শহীদ মিনার থেকে শুরু হওয়া এই গণস্বাক্ষর সংগ্রহ বিভাগভিত্তিকভাবে সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। চার দিনব্যাপী এই কর্মসূচির পর আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সাত দফা দাবি স্মারকলিপি আকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাকসু নির্বাচন নিয়ে আলোচনার ঝড় বইছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, নির্বাচন যদি নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত না হয়, তবে গণতান্ত্রিক চর্চা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং শিক্ষার্থীদের আস্থায় বড় ধাক্কা লাগবে। সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসে সংঘটিত সহিংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও সরব হয়ে উঠেছেন।
আয়োজক সংগঠনগুলো বলছে, সাত দফা দাবি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে এবং ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক চর্চা পুনঃপ্রতিষ্ঠা পাবে। তাঁদের মতে, এই কর্মসূচি শুধু চাকসু নির্বাচন নয়, বরং সামগ্রিকভাবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, অধিকার ও কল্যাণের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এই দাবিগুলোর গুরুত্ব অনেক বেশি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে আসন্ন চাকসু নির্বাচন। গণস্বাক্ষর কর্মসূচি তারই প্রমাণ বহন করছে যে, শিক্ষার্থীরা এ নির্বাচনকে শুধু প্রতীকী প্রক্রিয়া নয়, বরং তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখছে।