সাকিবের ব্যাটে ঝড়, কিন্তু এক ওভারের ধাক্কায় সিপিএল থেকে বিদায় অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনসের

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫১ বার
সাকিবের ব্যাটে ঝড়, কিন্তু এক ওভারের ধাক্কায় সিপিএল থেকে বিদায় অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনসের

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) শেষ অবধি ব্যাট হাতে রঙ ছড়ালেও বল হাতে ব্যর্থতাই কাল হলো সাকিব আল হাসানের। ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে এলিমিনেটর ম্যাচে এক ওভারে ১৭ রান দিয়ে দলের সব আশা গুঁড়িয়ে দেন বাংলাদেশের এই তারকা অলরাউন্ডার। ফলে এবারের সিপিএল থেকে বিদায় নিতে হলো তার দল অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনসকে। অন্যদিকে, নিরঙ্কুশ ৯ উইকেটের জয়ে ত্রিনবাগো নিশ্চিত করেছে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য দুর্দান্ত হয়েছিল ফ্যালকনসের জন্য। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে তারা গড়ে তুলেছিল লড়াকু সংগ্রহ। ওপেনিং ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আমির জাঙ্গু ও আন্দ্রিস গুস দলকে দাঁড় করান। ১০৮ রানের জুটি গড়ে দুজনই তুলে নেন অর্ধশতক। জাঙ্গু ৪৯ বলে করেন ৫৫, অন্যদিকে গুস ৪৫ বলে খেলেন ৬১ রানের দারুণ ইনিংস। তাদের ব্যাটে ভর করেই নির্ধারিত ২০ ওভারে দলটি দাঁড় করায় ১৬৬ রানের সংগ্রহ।

ইনিংসের শেষ দিকে ঝড় তোলেন সাকিব আল হাসান। ১৮তম ওভারে উইকেটে এসে তিনি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকেন। সুনীল নারাইনের এক ওভারেই কষান তীব্র মার, ৫ বল থেকে তুলে নেন ১৮ রান, যাতে ছিল তিনটি চার ও একটি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৯ বলে অপরাজিত ২৬ রান করে ফ্যালকনসের ইনিংস বড় করতে অবদান রাখেন তিনি। তবে তার আগের ব্যাটাররা ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারানোয় দল বড় স্কোরের পথে হাঁটতে পারেনি।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স। ইনিংসের গোড়াতেই তাদের ওপেনাররা চাপে পড়লেও ধীরে ধীরে হাত খুলতে শুরু করেন অ্যালেক্স হেলস ও নিকলাস পুরান। হেলস ৪০ বলে অপরাজিত ৫৪ রানের ইনিংস খেললেও আসল ঝড় তোলেন পুরান। শুরুতে একটু সময় নিয়ে তিনি ধীরে ধীরে ব্যাটিং আক্রমণ চালান। ফ্যালকনসের বোলারদের ওপর একের পর এক আঘাত হানতে থাকেন তিনি।

সাকিব আল হাসান প্রথম দুই ওভারে যথাক্রমে ২ ও ৫ রান দিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেছিলেন। তখনও ম্যাচে সমীকরণ কিছুটা ফ্যালকনসের পক্ষেই ছিল। কিন্তু সব হিসাব উল্টে যায় ১৫তম ওভারে এসে। নিজের তৃতীয় ওভারে বল হাতে নিতে এসে নিকলাস পুরানের তাণ্ডবে পুরো ওভার খুইয়ে বসেন সাকিব। সেই ওভারে পুরান হাঁকান দুই ছক্কা ও একটি চার। ৩৬ বলে যেখানে প্রয়োজন ছিল ৪২ রান, সাকিবের সেই ওভার শেষে সেটি নেমে আসে মাত্র ৩০ বলে ২৫-এ।

এরপর ম্যাচ আর ফ্যালকনসের নিয়ন্ত্রণে ফেরেনি। পুরান ঝড় থামাননি। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৫৩ বলে ৯০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি, যাতে ছিল ছয়টি ছক্কা ও আটটি চার। হেলসও অপরাজিত থেকে দলের জয়ের কাজ সারেন। নির্ধারিত লক্ষ্য তারা ছুঁয়ে ফেলে ১৫ বল হাতে রেখেই। ফ্যালকনসের হয়ে একমাত্র সাফল্য পান রাহকিম কর্নওয়াল, যিনি তুলে নেন ত্রিনবাগোর একমাত্র উইকেট।

এ হারের মধ্য দিয়ে এবারের সিপিএল অভিযান শেষ হলো অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনসের। অথচ ব্যাট হাতে ঝড় তোলা সত্ত্বেও সাকিব বল হাতে দলের সবচেয়ে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ান। ম্যাচ শেষে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তার সেই এক ওভার, যা ম্যাচের গতিপথ পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ম্যাচে সাকিবের অভিজ্ঞতা দিয়েই হয়তো দলকে চাপে রাখার সুযোগ ছিল, কিন্তু পুরানের সামনে ভুল জায়গায় বল করায় তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগেনি। ১৭ রান দেওয়া সেই ওভারই ফ্যালকনসের জন্য হয়ে দাঁড়িয়েছে সর্বনাশের কারণ।

এমন পরিস্থিতি সাকিবের জন্যও হতাশাজনক। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাট হাতে সাফল্যের পর বল হাতে ব্যর্থতা তাকে বিব্রত করেছে। তবে তার ব্যাটিং ঝলক কিছুটা হলেও ভক্তদের স্বস্তি দিয়েছে। ম্যাচ শেষে দলীয় কোচও জানিয়েছেন, সাকিবের ব্যাটিং অবদান ছাড়া তাদের সংগ্রহ আরও কম হতো, যা প্রতিপক্ষের জন্য আরও সহজ হতো।

ত্রিনবাগোর জন্য এ জয় বিশাল আত্মবিশ্বাসের। তাদের টপ অর্ডারের দুই ব্যাটারের ফর্ম সুপার ফোরে আরও শক্তিশালী করে তুলবে দলকে। বিশেষ করে পুরানের ইনিংসকে টুর্নামেন্টের সেরা ইনিংসগুলোর একটি হিসেবে ইতিমধ্যেই অভিহিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফ্যালকনসের জন্য এ পরাজয় বড় হতাশা হলেও সাকিবের পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করেছে, ব্যাট হাতে তিনি এখনও ভয়ংকর। তার অলরাউন্ড দক্ষতা এখনও ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের মতো প্রতিযোগিতামূলক আসরেও দারুণ কার্যকর হতে পারে, তবে ধারাবাহিকতা ফেরানোই এখন তার বড় চ্যালেঞ্জ।

সব মিলিয়ে এক ওভারের ব্যর্থতা ঢেকে দিয়েছে পুরো ইনিংসে সাকিবের অবদান। আর তাতেই থেমে গেল অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনসের এবারের সিপিএল স্বপ্ন। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী মৌসুমে তারা কীভাবে নতুন করে দল গোছায় এবং সাকিব আবারও কতটা আলো ছড়াতে পারেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত