চাকসু নির্বাচনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ১১৬২ প্রার্থী

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৪ বার
চাকসু নির্বাচনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ১১৬২ প্রার্থী

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে এইবারে মোট ১ হাজার ১৬২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এদের মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদের ২৬টি পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ৫২৮ জন প্রার্থী, আর হল সংসদের ২০৬টি পদে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন ৬৩৪ জন। তবে সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে কতজন প্রার্থী মনোনয়ন গ্রহণ করেছেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তথ্য জানা যায়নি।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন চাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. কে এম আরিফুল হক সিদ্দিকী। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সকলের সুবিধার কথা বিবেচনা করে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন ঘোষণা দিয়েছিলেন যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের শেষ সময় বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এবং জমার শেষ সময় বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত। তিনি আরও জানিয়েছেন, এরপর আর কোনো সময়সূচিতে পরিবর্তন হবে না।

চাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা, আগ্রহ এবং আলোচনা প্রবল। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় সংসদে বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক বেশি। কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ৫২৮ জন প্রার্থী। এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রমাণ, কারণ এটি প্রতিবারের তুলনায় প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হল সংসদের পদগুলোয় মনোনয়ন নিয়েছেন ৬৩৪ জন। হল সংসদের ক্ষেত্রে প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়া মূলত হল ইউনিটগুলোতে সরাসরি শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ এবং স্থানীয় সমর্থনের কারণে।

চাকসু নির্বাচনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষার্থীরা মনোনয়নপত্র গ্রহণের মাধ্যমে তাদের প্রার্থীতা ঘোষণা করে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে।

প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র গ্রহণের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠন থেকে সমর্থন পেতে ব্যস্ত থাকেন। এই সময়ে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রার্থীতা ঘোষণা, নির্বাচনী প্রচারণার প্রস্তুতি এবং সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ নিশ্চিত করেন। প্রতিটি পদে প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা কঠিন এবং উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে। এর পর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৫ সেপ্টেম্বর। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

চাকসু নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি, নেতৃত্ব বিকাশ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়। কেন্দ্রীয় ও হল সংসদের পদে প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি প্রমাণ করে, শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার এবং দায়িত্ব সম্পর্কে কতটা সচেতন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচনের সময় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। নিরাপত্তা, মনোনয়নপত্র যাচাই, ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতি এবং ভোটগ্রহণের সময় নির্ধারিত নীতি মেনে চলা নিশ্চিত করার জন্য কমিশন সতর্ক রয়েছে।

এছাড়া, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং স্বতঃস্ফূর্ত মনোনয়নপত্র গ্রহণের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হচ্ছে। কেন্দ্রীয় এবং হল সংসদের নির্বাচন শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের চেতনা জাগ্রত করে এবং নেতৃত্ব বিকাশে সহায়তা করে।

চাকসু নির্বাচন প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। শিক্ষার্থীরা মনোনয়নপত্র গ্রহণের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক ভাবনা, নেতৃত্বের ক্ষমতা এবং দলগত সমর্থনের বিষয়গুলো প্রকাশ করে।

চাকসু নির্বাচন কমিশন জানিয়েছেন যে, তারা সকল প্রার্থী ও ভোটারদের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশে নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নিয়েছে। এছাড়া, প্রার্থী এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে এবং মনোনয়নপত্রের প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

এবারের নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ এবং প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। কেন্দ্রীয় ও হল সংসদের পদগুলোতে প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি প্রমাণ করছে যে শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও গতিশীল ও জীবন্ত করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মনোনয়নপত্র গ্রহণ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। শিক্ষার্থীরা তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং সমর্থক দলের সঙ্গে সমন্বয় স্থাপন করতে পারছেন। এই প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।

সার্বিকভাবে, চাকসু নির্বাচনে মোট ১ হাজার ১৬২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র গ্রহণ একটি বড় অর্জন। এটি প্রমাণ করে যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব সচেতনভাবে পালন করছেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।

এই নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু নেতৃত্ব প্রদর্শন করছেন না, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাবও ফেলছেন। কেন্দ্রীয় ও হল সংসদের প্রতিটি পদে প্রার্থীর অংশগ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও শক্তিশালী, সংগঠিত এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ জাগ্রত করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত